ধর্ষণ ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে খুলনায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনায় বিয়ের নামে প্রতারণা, ধর্ষণ ও গর্ভের দুটি বাচ্চা নষ্টের অভিযোগে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ কাজী আকরাম হোসেনের (৫৩) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ আগষ্ট) নগরীর লবনচরা এলাকার বাসিন্দা জনৈক নারী বাদী হয়ে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে (৩নং) মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এস এম মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন আদালত মামলাটি গ্রহনপূর্বক তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত এসআই কাজী আকরাম হোসেন বর্তমান কেএমপির খুলনা সদর থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার শ্যামবাগাত গ্রামের যশোর আলী কাজীর পুত্র। এরআগে, নগরীর লবনচরা থানায় কর্মরত ছিলেন।

এজাহারে বাদী ভুক্তভোগী ওই নারী উল্লেখ করেছেন, আসামী আকরাম যখন লবনচরা থানায় কর্মরত ছিলেন সেই সময় থেকে তার সাথে পরিচিত। এরই সূত্র ধরে আসামী আকরাম বাদীর বাড়ীতে যাওয়া আসা করতো। একপর্যায়ে আসামী আকরাম বাদীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের ২য় সপ্তাহে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টায় আসামী আকরাম একজন হুজুরসহ বাদীর বাড়ীতে হাজির হন। তখন বাদীকে আসামী আকরাম জানায়; তুমি রেডি হও, হুজুর আমাদের বিবাহ পড়াবে। অতঃপর হুজুর মুসলিম শরীয়া মোতাবেক তাদের বিবাহ পড়ায়। তারপর বাদী আসামী আকরামকে বিবাহ রেজিস্ট্রি করার কথা বললে আসামী বলে, আমি পুলিশে চাকরী করি। এই মুহূর্তে রেজিস্ট্রি কাবিন করলে তার চাকুরিতে অসুবিধা হবে। এরপর বাদী বিবাহ রেজিস্ট্রি সম্পর্কে আর কোন কথা বলেনি। এরপর থেকে আসামী আকরাম বাদীনির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও স্বামী স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করতে থাকে। বাদী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বিষয়টি আসামীকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে গালিগালাজ করতে থাকে। গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকে। এরপর থেকে বাদী আসামীর সাথে আগের মতো যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। বাদীনি আসামী আকরামকে মোবাইল করলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বলে কিসের সন্তান, কিসের বউ, তুই আমার বউ হলি কেমনে, তোকে কি আমি বিয়ে করেছি। এই বলে মোবাইল রেখে দেয়। বিয়ে হওয়ার পর এবং সর্বশেষ গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতী  আসামীর অপচেষ্টা বাদীর পেটের ২টি বাচ্চা নষ্ট করিয়েছে। বর্তমানে বাদীনি ৮ মাসের অন্তসত্ত্বা।

সর্বশেষ গত ৮ আগষ্ট তাকে ফোন করলে আসামী আকরাম বাড়ীতে এসে গালিগালাজ করতে থাকে। তখন  অনাগত সন্তানের জন্য খরচ চাইলে তুই আমার বউ না। সন্তান আমার না, তাহলে তোকে খরচ দেবো ক্যান। যদি এই নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করিস তাহলে তোকে এনকাউন্টার করে দেবো। তোর ও তোর পেটের বাচ্চা শেয়াল কুকুরে খাবে এই বলে ঘটনা স্থল ত্যাগ করেন। আসামী আকরাম স্বামী রূপ ধারণ করে বাদীনিকে ২০১৪ সাল থেকে ধর্ষণ করে আসছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।