খুলনায় ঝাল-মুড়ি বিক্রেতা লিটনের সচেতনতা হতে পারে অনুকরণীয়

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : মাহবুব আলম লিটন। জীবনের চল্লিশ বছর পার করেছেন। তিনি বাস করেন গোবরচাকায়। দু’মেয়ে এক ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে তার ছোট সংসার। দীর্ঘ ২০১৫ সাল থেকে নগরীর শিববাড়িমোড়ে এলাকায় তিনি এ ঝাল-মুড়ি বিক্রি করে চলেছেন। তার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সমাজে অনুকরণীয় হতে পারে।
প্রতিদিন তিনি যে টাকায় মালামাল বিক্রি করেন তাতে তার সংসার খরচ ভাল ভাবেই চলে যায়।

ব্যবসায়ীরা মালামাল বিক্রি করতে গেলে আগে মাল ভাল, দাম এত, ওমক জায়গার বিখ্যাত এক নাম্বার মাল—ইত্যাদি বিশেষণ দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। নিজে হয় লাভবান। কিন্তু এখানে সম্পূর্ন ভিন্ন এক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন বান্ধব দোকানদার পাওয়া গেছে।
তিনি নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে পরিবেশ সুন্দর রাখার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি খাবারের দোকানের কাচের চারপাশে ছোট ছোট স্টীকার কাগজে লিখে দিয়েছে ‘খেয়ে কাগজ বা ময়লাটা পাশের ঝুড়িতে ফেলুন’।

এভাবেই তিনি ক্রেতাদের অনুরোধ করেছেন। করেছেন সচেতন। তার এ অনুরোধের পথ চলা অনেক দিনের। তিনি লেখার পাশাপাশি মুখেও এ কথা বলছেন। এতে করে সচেতন ক্রেতারা তার ভাল কাজের প্রশংসা করেছেন। একই সাথে তার মাল ক্রয়ে এসব সচেতন ক্রেতা আগ্রহী হয়েছেন।

তিনি প্রতিদিন বিকেলে শিববাড়ী মোড় জীবনবীমা ভবনের সামনে কেডিএ সড়কের পাশে বসে মুড়ি, ছোলা, আলু, পেয়ারা, বাদাম বিক্রি করেন। বিক্রি শেষে যান প্রায় রাত ৯টার দিকে। এ দীর্ঘ সময় তিনি অনেক মালামাল বিক্রি করলেও এক টুকরা কাগজ পড়ে থাকে না তার দোকানের পাশে। পরিবেশ বান্ধব তিনি সব কাগজের টুকরাই নিজে সংগ্রহ করে পাশের নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলেন। তবে তার লেখা দেখে অধিকাংশ ক্রেতা খাওয়া শেষে কাগজের টুকরা নির্ধারিত ঝুড়িতেই ফেলেন। একই সাথে তিনি মাল দেয়ার পর ক্রেতাকে খাবার শেষে কাগজের টুকরাটি নির্ধারিত ঝুড়িতে ফেলার জন্য মৌখিকভাবেও অনুরোধ করেন। তার এ সচেতনা দেখে অনেকে মুগ্ধ হন।

মাহবুব আলম লিটন বলেন, তিনি এ পেশায় আসার আগে সিএনজি ও পরে ইজিবাইক চালাতেন। হতাশার জায়গা থেকে ভ্রাম্যমানভাবে বক্স ভ্যানে করে ঝাল-মুড়ি বিক্রি শুরু করেন। প্রতিদিন শিববাড়ি মোড় জীবনবীমাভবনের সামনে কেডিএ সড়কের পাশে ঝাল-মুড়ি বিক্রি শুরু করেন। রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে যান। তিনি বলেন, শিববাড়ি মোড়ে আগে তিনি শরবত বিক্রি করতেন। কিন্তু ভ্যানের চারপাশে অনেক কাগজের টুকরা পড়ে থাকতো। অপরিস্কার পরিবেশে নিজেরই কোন কিছু খেতে ঘৃণা লাগতো।

সেই ঘৃণার জায়গা থেকে তিনি বক্স ভ্যানে ঝাল-মুড়ি বিক্রি করেন। একই সাথে ঝুড়ি জোগাড় করেন। যাতে করে ক্রেতারা খাবার শেষে তাকে দেয়া কাগজের টুকরোটি ঝুড়িতে ফেলতে পারেন। নিজ সচেতনতা থেকেই তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। ছোট ছোট কাগজে তিনি ঝুঁড়িতে ময়লা ফেলার ব্যাপারে সচেতনা করে বেশ সাড়া পেয়েছেন। এখন ক্রেতারা অধিকাংশই খাবার খেয়ে কাগজের টুকরোটি ঝুঁড়িতে ফেলছে। যা তার চেষ্টার ফসল। ক্রেতাদের কাগজ ঝুঁড়িতে ফেলার দৃশ্য দেখে তারও মনে আনন্দ লাগে। যেন তার চেষ্টা আজ সার্থক হয়েছে। এতে করে খাবার বিক্রির পরও ওই স্থানটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকছে। নগরীতে সড়কের পাশে বসে ভ্রাম্যমান ভাবে যারা খাবার বিক্রি করেন তারা যদি সবাই এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেন তবে নগরীর ময়লা অনেক কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন। সকলের সচেতনতাই সুন্দর নগরী উপহার দেয়া সম্ভব বলে এই ঝাল-মুড়ি বিক্রেতার বিশ্বাস।

(ঊষার আলো-এফএসপি)