সাজ সাজ রব, যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা আজ

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : প্রায় পাঁচ বছর পর যশোরে আসছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি। প্রধানমন্ত্রীর আগমণকে কেন্দ্র করে যশোর এখন উৎসবের নগরী। সাজ সাজ রব। নেতাকর্মীদের ব্যস্ততায় সরব হয়ে উঠেছে যশোর নগরী। আর এর মাধ্যমেই পঞ্চাশ বছর আগে ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বরের ইতিহাসের সেই পুনরাবৃত্তি দেখার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। যেখানে জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়েই তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।


এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছর পর এবারের জনসভা সফল করার লক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা ঘিরে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও প্রশাসন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটিই দলীয় ব্যানারে শেখ হাসিনার প্রথম জনসভা। এজন্য এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে অন্তত ১০ লাখ লোকের জনসমাগম হবে। জনসভা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন জানিয়ে তারা বলেন, সব ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে আওয়ামী লীগের যে প্রতিরোধের ডাক, তা যশোর থেকে শুরু হলো।

দলটি প্রেসিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যশোরসহ আশপাশের এলাকার কোনও মানুষ ঘরে থাকবে না। তারা বৃহত্তর যশোরের উন্নয়নে রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কথা শুনতে আসবে। জনসভাকে কেন্দ্র করে যশোর সংলগ্ন জেলাগুলোর মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ১৪ বছর আগে যশোর ছিল একটি ক্ষতবিক্ষত জনপদ। সেই যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলাতে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এই এলাকার মানুষ সব সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে।

আওয়ামী লীগের এই জনসভা বিএনপির জনসভাগুলোর প্রতিযোগিতা নয়- দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানালেও নেতাকর্মীরা বলছেন, তাদের জনসভায় জনসমাগম হবে বিএনপির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। গোটা যশোর শহরটাই সমাবেশস্থলে পরিণত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ৮ উপজেলা, ৮টি পৌরসভা ও ৯৩টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করছেন জনসভা সফল করার জন্য।

এদিকে, দীর্ঘদিন পর প্রাণের নেত্রীকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত পুরো যশোর। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে যশোর জেলার বিভিন্ন দেয়াল রাঙানো হয়েছে রঙে, পরিষ্কার করা হয়েছে বিভিন্ন রাস্তা। এ ছাড়া তৈরি করা হয়েছে অভ্যর্থনা তোরণ। এরই মধ্যে স্টেডিয়ামে নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। শামস্-উল হুদা স্টেডিয়াম সেজেছে নতুন রূপে। স্টেডিয়ামের উত্তর পাশের জীর্ণ গ্যালারি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে স্টেডিয়াম ও ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপাল কলেজ মাঠ একাকার হয়েছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট, দেয়াল নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। প্রত্যেকটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা তৃণমূলে জনসংযোগ করছেন। যশোরসহ খুলনা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, বাগেরহাটসহ খুলনার ১১টি জেলা থেকে নেতাকর্মীরা যশোরে আসবেন।

যশোরের এ জনসভায় প্রথমবারের মতো আসছে দেশের ঐতিহ্যবাহী ‘কলরেডি’ কোম্পানির মাইক। জনসভার ভাষণ প্রচারে শহরজুড়ে থাকবে এ কোম্পানির প্রায় ৩০০ মাইক। নিখুঁত সাউন্ড সিস্টেম পেতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, গত কয়েকবছরে বৃহত্তর যশোর জেলার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এজন্য এই এলাকার মানুষ বঙ্গবন্ধুকন্যাকে কাছে পেতে স্বতঃস্ফূর্ত উদ্দীপনা নিয়ে আছে। অন্তত দশ লাখ লোকের সমাগম হবে।