UsharAlo logo
বৃহস্পতিবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘ভোট কাটার জন্য যাদের টাকা আর মাস্তান আছে, তারাই দ্রুত নির্বাচন চায়’

ঊষার আলো রিপোর্ট
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা কখনো দিনক্ষণ, মাস বা বছর বেঁধে দেইনি। আমরা শুধু বলেছি, নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসাবে যে সংস্কার প্রয়োজন, তা সম্পন্ন হোক। আমরা ভোট কাটতে পারব না। আমাদের টাকা আর মাস্তান নেই। কিন্তু যাদের রয়েছে, তারাই তাড়াতাড়ি নির্বাচন চায়, যেন ভোট কেটে নিতে পারে।

বুধবার বিকাল ৪টায় বরগুনা পৌরসভার টাউন হল মাঠে জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, যারা বলেন জামায়াত দেরিতে নির্বাচন চায়, আবার চায় না—তারা বাস্তবতা বুঝতে পারছেন না। আমরা চাই, নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হোক। সেই নির্বাচন যদি আবারো ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের মতো হয়, তাহলে এত বছরের অপেক্ষা ও ত্যাগের কোনো মূল্য থাকবে না।

অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, গত ১৭ বছরে জনগণের ভোটাধিকার ছিল না। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। কেন্দ্রের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বাঁধা দেওয়া হয়েছে। আলেম-ওলামাদের ‘জঙ্গি’ বানিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, নিরপরাধ নেতাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতসহ আমরা যারা বিরোধী দলে ছিলাম তাদের ওপরে স্ট্রিম রোলার চালানো হয়েছে। এছাড়াও তিন ব্যক্তি বাড়িতে বসে কথা বললেও ধরে নিয়ে গিয়ে বলা হতো নাশকতার ষড়যন্ত্র করেছে। ঘরের মধ্যে কুরআন-হাদিস পাওয়া গেলে বলা হতো জঙ্গি বই পাওয়া গেছে। এমন আজব দেশেই আমরা বসবাস করেছিলাম।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ৫ আগস্টের পর ভেবেছিলাম দেশে শান্তি ফিরে আসবে। কিন্তু এখন আবার আগের মতো চাঁদাবাজি, মাস্তানি, কমিটি দখল শুরু হয়েছে। এগুলো কি জামায়াতের লোকেরা করছে? তাহলে এত রক্ত দেওয়ার অর্থ কী? এই কথা বলতে গেলে কেউ কেউ কষ্ট পায়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে যে সময় দরকার, তা নেওয়া হোক। আমরা কখনো পুরো রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলিনি, কেবল নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ-ছয়টি বিষয়ে সংস্কারের কথা বলেছি। সাড়ে ছয় মাসে একের পরে এক বাঁধা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘাড়ে এসে পড়েছে। নির্বাচনের অভিযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এ সরকারকে বলেছি আপনাদের কোনো দিকে কান দেওয়ার দরকার নেই।

তিনি বলেছেন, সেনাপ্রধান, উপদেষ্টা প্রধান ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরকে শক্তভাবে থাকতে আহ্বান করেছি। এছাড়াও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনে যে সমস্ত সংস্কার প্রয়োজন তা করেই নির্বাচন দিতে বলেছি। তবে আমরা এই সরকারের আমলে গোটা রাষ্ট্রকে সংস্কারের কথা বলিনি। দুই থেকে ৬ মাসের মধ্যে রাষ্ট্রের সব সংস্কার করাও সম্ভব নয়। আমরা শুধু বলেছি, নির্বাচনের জন্য এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছে- এমন পাঁচ থেকে ছয়টি বিষয়ে সংস্কার করে যাতে নির্বাচন দেওয়া হয়। আর এ সংস্কার করতে যে সময়ের প্রয়োজন হবে সে সময়টুকু দিতে জামায়াত রাজি আছে।

ইসলামি দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে তিনি বলেন, ইসলামিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের আলোচনা চলছে। আমরা চাই, ইসলামিক দলগুলো একসঙ্গে কাজ করুক। আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ সবাই এখন এক হওয়ার চিন্তা করছে। এছাড়াও বিভিন্ন ছোট-বড় রাজনৈতিক দল নিয়েও ঐক্যের আলোচনা চলছে। যদি আমাদের ঐক্য হয় তাহলে যে কোনো আসন যে কোনো দলকে ছেড়ে দিতেও আমরা রাজি আছি। আমরা সকল ইসলামিক দলকেই ঐক্যের আহ্বান জানাই।

ঊষার আলো-এসএ