অসামাজিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে নির্যাতিত বীর মুক্তিযোদ্ধা; গ্রেফতার ১

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : মাদক ও জুয়াসহ অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন খালিশপুরের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার নাম বীরমুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু সাঈদ(৭৩)। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সোহাগ (৩০) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে।
খালিশপুরের আলোচিত পিপলস পাঁচতলা (অন্ধ) কলোনী। কলোনীকে ঘিরে মাদক, জুয়া আর অসামাজিক কর্মকান্ডের রমরমা অবস্থা। এর প্রতিবাদ করলেই তার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। একাধিকবার প্রতিবাদকারীরা নিগৃহীত হওয়ার কারণে কেউ ভয়ে আর প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। অধিকাংশ ভবনের ছাদে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক বিক্রি, সেবন ও অবাধ যৌনাচার। যা কলোনীর সাধারণ বাসিন্দাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এমনই ঘটনার প্রতিবাদ করায় কলোনীর বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু সাঈদ নির্যাতনে শিকার হয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে খালিশপুর তৈয়েবা কলোনীতে। এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে ১৭জনকে আসামী করে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সোহাগ নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। সে কলোনীর বাসিন্দা সৈয়দ আলীর ছেলে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আমি (বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ) এলাকায় (পাঁচতলা কলোনীতে) মাদক জুয়া বন্ধে সচেতনাতামূলক অনেক কর্মকান্ড করি। আমার বসবাসরত এলাকায় রাসেল স্মৃতি সংসদ ক্লাবে জুয়া ও মাদক বন্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করি। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উক্ত ক্লাবে জুয়া খেলা ও মাদক বিক্রি বন্ধ হয়। এর ফলে ক্লাবের কতিপয় সদস্য আমার ওপর ক্ষপ্তি ছিল। আমি এলাকার তৈয়বা মসজিদের ইমামকে খুৎবার আগে মাদক ও জুয়া বিরোধী বক্তব্য প্রদান করার জন্য অনুরোধ করি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ জুন দুপুরে জুম্মার নামাজের খুৎবার আগে মসজিদের ইমাম মাদক ও জুয়ার বিরোধী বক্তব্য দেন। উক্ত বক্তব্যে আসামীরা ইমামকে জিজ্ঞাসা করে এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার জন্য আপনাকে কে বলেছিল। ইমাম সাহেব আমার কথা উল্লেখ করলে আসামীরা আমার ওপর ক্ষীপ্ত হয় এবং ইমাম সাহেবকে হুমকি প্রদান করে। ইমাম সাহেব মোবাইলের মাধ্যমে তাঁর হুমকির বিষয়টি জানালে আমি ইমাম সাহেবের সাথে তাঁর কক্ষে দেখা করতে আসি। মসজিদের পাশে ইমাম সাহেবের কক্ষে এই বিষয়ে ৪ জুন বিকেল সোয়া ৩টার সময় আলোচনাকালে আসামীরা আমার কলার ধরে ইমাম সাহেবের রুম থেকে টেনে হেচড়ে বের করে নির্মম নির্যাতন শুরু করে। কেউ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়, কেউ আবার লাঠি দিয়ে আঘাত করে, এমন কি কিল ঘুরি চড় লাথি চলে সামান ভাবে। আমার ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আমাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাত ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা আমার ছেলে নুরুল ইসলাম মাসুম (৩৯) ও প্রতিবেশী লিটু (৫০) কে মারধর করে আহত করে। এ ঘটনায় আলম খান(৪৫), কাইয়ুম(৩৫), মাসুদ (৩৬), টিটু (৩৭), সোহাগ (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামী করে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই আঃ মান্নান হাওলাদার।
বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ বলেন, কলোনীর ১ ও ২নং বিল্ডিং-এর ছাদে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক বিক্রি, সেবন ও অবাধ যৌনাচার। ক্লাবে চলে জুয়া ও মাদকের জমাজমাট আসর। তবে এ ঘটনার পর কলোনীতে এসব কর্মকান্ড আপাতত বন্ধ আছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ দীর্ঘ দিন ধরে করে আসছি। এই প্রতিবাদের কারণে ক্লাবের সেক্রেটারি আলম খানসহ দু’জনকে মাদকসহ পুলিশ গ্রেফতার করে। যে মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন।
ওই কলোনীর পরিবেশ খারাপের কথা স্বীকার করে ১১নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাঃ সম্পাদক সরদার আলী আহমেদ বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার পর কলোনীর পরিবেশ ভাল করার জন্য নানা মুখী ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এমন কি কলোনীর পরিবেশ যাতে কোনভাবে বিনস্ট না হয় সে জন্য সকলকে তিনি তাগিদ দিয়েছেন। এখন কলোনীতে বসবাসের যোগ্য হয়েছে। তারপরও কেউ কেউ আগের খারাপ ইতিহাস বারবার সামনে টেনে আনে নিজেদের স্বার্থে। এতে করে কলোনীর ভাল পরিবেশ করার উৎসাহ হারাতে হয়। কলোনীর মাঠ ও ক্লাব সামাজিক কাজে ব্যবহার করার জন্য ইতোমধ্যে নানা কাজ করেছি। আরো অনেক কাজ করার পরিকল্পনা হাতে রয়েছে। কিন্তু মুষ্টিমেয় কয়েকজন স্বার্থান্বেষীমহল এটা ভাল চোখে না দেখে ফায়দা হাসিলের জন্য বিভিন্ন মহলে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে চলেছে।
খালিশপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ কামাল হোসেন খান বলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। তবে তিনি একা আর তার বিপক্ষে সকল দুষ্টুরা। বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন বলে জানান।

(ঊষার আলো-এমএনএস)