করোনার অজুহাত : রোগীকে ক্লিনিক থেকে বের করে দেয়ায় আলাদতে মামলা, তদন্তে সিআইডি

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ৬২, আউটার বাইপাস রোড এআর কমপ্লেক্সের পঙ্গু এন্ড গাইনি স্পেশালাইজড হাসপাতালে দৌলতপুর বাজার উন্নয়ন সংস্থার ক্রীড়া সম্পাদক ও ব্যবসায়ী শেখ ইসতিয়াকের স্ত্রীকে গত ৭ এপ্রিল সকালে ভর্তি করা হয়। একই দিন আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। গত ৮ এপ্রিল বিকেলে ডাক্তার রওশন আরা বেগম ও হাসপাতালের ম্যানেজার মেহেদী হাসান সদ্য জন্ম নেয়া শিশু ও তার মা নাবিলাকে করোনার সংক্রমনের অজুহাত তুলে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বলেন। নাবিলার স্বামী ব্যবসায়ী শেখ ইশতিয়াক সেলাই না কাটা পর্যন্ত তার স্ত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থান রাখার জন্য ডাঃ রওশন আরাকে বিশেষ অনুরোধ করেন। কিন্তু ডাঃ রওশন আরা অসুস্থ নাবিলাকে কোন অবস্থাতেই করোনার মধ্যে হাসপাতালে রাখা যাবে না বলে অসুস্থ অবস্থায় তার স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। এ পর্যায়ে ব্যবসায়ী ইসতিয়াক এই অমানবিক ও নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থী কাজের জন্য প্রতিবাদ করলে ডাক্তার রওশন আরা তার ম্যানজার মেহেদীকে মাধ্যমে পুলিশের ভয়ভীতি দেখায় এবং এক পর্যায়ে ম্যানজার মেহেদী ও তাদের উপর চড়াও হয়ে বলে, ‘ম্যাডাম কি করতে পারে তুই ভাবতে পারছিস না। এ ব্যাপারে বড়াবাড়ি করলে তার ফল মোটেও ভালো হবে না।’ শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল হতে বের করে দেন এই দম্পতিকে। অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে ব্যবসায়ী ইসতিয়াক তার অসুস্থ স্ত্রী নাবিলাকে নিয়ে অত্র হাসপাতাল ত্যাগ করে অন্যত্র চিকিৎসা নেয়। উল্লেখ্য,ব্যবসায়ী তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীকে দীর্ঘদিন অধ্যাপক ডাঃ রওশনার নিবিড় তত্ত্ববাধায়নে দেখিয়ে আসছিলেন।
ডাঃ রওশন আরার অসুস্থ রোগীর প্রতি এমন অমানবিক অচারণের কারণে খালিশপুর থানাধীন কাশিপুর রাজধানীর মোড়ের মৃত শেখ মনোয়ার হোসেনের ছেলে ব্যবসায়ী ইসতিয়াক (৩০) গত ৪ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট কোর্টে হাজির হয়ে পঙ্গু এন্ড গাইনি স্পেশালাইজড হাসপাতালের সত্বাধিকারী অধ্যাঃ ডাঃ রওশন আরা বেগম ও ম্যানেজার মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামল নং- সিআর ১৭৯/২১।
৪ মে মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট তরিকুল ইসলাম।

(ঊষার আলো-এমএনএস)