বর্তমানে আরো সাত থেকে ৮শ নমুনার জট মেডিকেলের ল্যাবে

করোনা নমুনার পরীক্ষার ফল পেতে বিলম্ব : ভোগান্তিতে মানুষ

সর্বশেষ আপডেটঃ
KMCH_Ualo
ছবি : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল - সংগৃহিত

ঊষার আলো প্রতিবেদক : করোনার নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ছেন করোনা পরীক্ষা করতে দেওয়া নগরবাসী। দীর্ঘদিনে নমুনার ফল না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গুরুতর রোগীদের। ফলাফল সঠিক সময়ে না পাওয়ায় পজেটিভ রোগীও বের হয়ে পড়ছেন আইসোলেশন থেকে।
মা ক্যান্সারে আক্রান্ত। কেমোথেরাপি দিতে হয় নিয়মিত। কিন্তু জুলাই মাসের ৪ তারীখে নমুনা দিয়েও রেজাল্ট না পাওয়ায় ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের কেমোথেরাপি করতে পারছেন না খুলনার স্থানীয় একজন সাংবাদিক।
একই রকম অবস্থা গৃহবধূ গংগা কবুলাসী গত ০৭ জুলাই জ¦র কাশিসহ নানা সিমটম থাকায় খুলনা সদর হাসপাতালের নমুনা দেওয়ার বুথে নমুনা দেন। প্রথমে একশত টাকা দিয়ে রেপিড এ্যান্টিজেট টেস্ট করান। লক্ষন থাকায় আরো ১০০ টাকা দিয়ে পিসিআর টেস্টের নমুনা দেন। কিন্তু তার ফলাফল পাননি আজও।
নগরীর টুটপাড়ায় বসরবারত সাংবাদিক ও শিল্পী ফাতেমা তুজ যোহারা টুম্পা। ২৫ জুন থেকে তার জর, নাকে ঘ্রান নাই। ২৮জুন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। আজও ফলাফল পাননি। রিপোর্ট ছারাই করোনা চিকিৎসা নিচ্ছেন বাসা থেকেই। আর চিন্তাই রয়েছেন জরুরী প্রয়োজনে রিপোর্ট ছাড়া করোনা হাসপাতালগুলোতেও তো ভর্তি হতে পারবেন না।
নগরীর একটি কোম্পানির মার্কেটিং এর চাকরি করেন মোঃ রাজীব হোসেন ১৯ জুন তারীখে তার করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসে। তার ১৪দিন পর ফলোয়াপ নমুনা পরীক্ষা করতে দেন ০৩ জুলাই। এখনও পাননি তার ফলাফল। নেগেটিভ ফলাফল ছ্রাা অফিসেও জয়েন্ট করতে পারছেন না তিনি।
এ ব্যাপারে খুলনা মেডিকেল কলেজের ফ্লু কর্নারের মুখপাত্র ডাঃ সুহাষ রঞ্জন হালদার জানান, আমাদের নমুনার কোন জট নাই। হয়তবা ম্যাসেজ করার সময় ফোন নাম্বার ভুল গেছে এ জন্য ম্যাসেজ পাননি তিনি।
খুলনা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নেওয়াজ বলেন, র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করে যাদের ফলাফল নেগেটিভ আসে তাদের আর ম্যাসেজ করা হয় না। আর যাদের শরীরে সিমটম থাকে তাদের র‌্যাপিড টেস্টের সাথে পিসিআর টেস্টও করা হয় তাদের ম্যাসেজ যাবে। ম্যাসেজ যেতে দেরির কারন ল্যাবের লোকেরাই বলতে পারবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে খুলনা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ আব্দুল আহাদ বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের দুটো মেশিনে করোনার পরীক্ষা করা হয়। মেশিনে প্রবলেম এর কারনে চারদিন করোনা পরীক্ষা বন্ধ ছিল র‌্যাবে। সে সময় আমরা দুই হাজার স্যাম্পল ঢাকায় পাঠায়। পরে আবার মেশিন চালু হলেও প্রথমে স্বল্প সংখ্যক নমুন রান দিয়ে পুনরায় চালু করা হয়। এতে নমুনা জট বাধে। একারনে গত শুক্রবার আরো ২২০০ নমুনা পুনরায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আগামী এক দুই দিনের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে। তারপরও শুক্রবার তিনশত এর মত অতিরিক্ত নমুনা ছিল। গত দুই দিন মিলে ল্যাবে এখনও সাতশ থেকে আটশত নমুনার জট আছে।

(ঊষার আলোআরএম)