বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস

কেসিসির পরিচ্ছন্নকর্মীদের আন্দোলন স্থগিত

সর্বশেষ আপডেটঃ
খুলনা নগর ভবন - সংগৃহিত

ঊষার আলো প্রতিবেদক : আগামী সপ্তাহে (সোমবার) বকেয়া পাঁচ মাসের বেতন পরিশোধ করার আশ্বাসে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) আউট সোর্সিং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা চলমান আন্দোলন স্থগিত করেছে। একই সাথে  বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে তারা পুনরায় কাজে যোগদান করবে বলে আন্দোলনকারীরা সম্মতি দিয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগরভবনে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আজমুল হকের সাথে আন্দোলনকারীদের আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আজমুল হক জানান, আউট সোর্সিং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছে, এমনই খবরে তিনি বিষয়টি মেয়রের সাথে কথা বলেন। এ সময় মেয়র তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার নির্দেশনা দেন। বকেয়া চার মাসের বেতন আগামী সোমবার নাগাদ পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দেয়া হবে। মেয়রের সম্মতি পাওয়ার পর আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বললে তারা আন্দোলন স্থগিত করতে সম্মতি হয়েছে। তবে তারা আরো এক মাসের বেতন পাওনা রয়েছে। মেয়র আসার পর ওই এক মাসের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে তারা আজ বৃহস্পতিবার কাজে যোগদান করবে বলে সম্মতি দিয়েছে।

আন্দোলন শ্রমিক মোঃ রাসেল হোসেন, আল আমিন,হেলাল, শাহেদসহ অনেকে বলেন, আগামী সোমবার চার মাসের বকেয়া পরিশোধ করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এ জন্য তারা চলামান আন্দোলন স্থগিত করেছেন। তারা প্রায় ১১৫ জন শ্রমিক এ বকেয়া বেতন পাবেন। তাদের দৈনিক হাজিরা চারশত টাকা করে হলেও হাফিজুল ৩৫০ টাকা করে দিত। বাকী সে এবং তার সহযোগিরা ভাগভাটোয়ারা করে খেত। একই সাথে তারা দুর্নীতিবাজ হাফিজুলসহ তার সহযোগিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন। এ জন্য আতা আজ কাজে যোগদান করবেন।
এদিকে‘আমাদের দাবি না মানলে পরিচ্ছন্ন কাজ বন্ধ থাকবে, আমাদের দাবি মেনে নিন ৫ মাসের বেতন দিন।’ প্লেকার্ডে এমন স্লোগান নিয়ে বিােভ করেছেন কেসিসি আউট সোর্সিং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।গতকাল সকাল ৯টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত খুলনা প্রেসকাবের সামনে প্রায় শতাধিক শ্রমিক এ বিােভ করেন। এর আগে তারা সংস্থার পাওয়ার হাউজ মোড়স্থ গ্যারেজের সামনে জড়ো হয়ে বিােভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ১২০ জন বহিরাগত শ্রমিক ৫ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘ ৫ মাস বেতন না পেয়ে ুব্ধ এসব কর্মীরা কেসিসির তেলের ট্যাংক গ্যারেজের সামনে মঙ্গলবার বিােভ প্রদর্শন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবারও তারা বিােভে নামেন।
শ্রমিক রাসেল বলেন, ‘করোনার মধ্যেও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য পরিষ্কার করছি। অথচ ৫ মাস বেতন পাচ্ছি না। বর্জ্য অপসারণের সময় গ্লাভস, মাস্ক, বুটজুতা, হেলমেট ব্যবহার করার কথা থাকলেও আমাদের কিছুই নেই। শুনেছি আমাদের জন্য এগুলো বরাদ্দ হয়েছিল, কিন্তু আমরা পাইনি। বর্তমানে বেতন না পেয়ে অনেক মানবেতর জীবন যাপন করছি। মুদি দোকানীরা আর বাকি দিতে চান না। বাড়িওয়ালারাও বাসা থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন।’
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে কেসিসির আউট সোর্সিং-এর চাকুরিতে যোগদান করেন। কয়েক মাস সঠিকভাবে বেতন পেলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলতি জুলাই মাস (ছয় মাস) পর্যন্ত বেতন পাননি। বার বার কর্মীদের সুপারভাইজার হাফিজুল ইসলামের কাছে বেতনের জন্য ধন্যা ধরেও বেতন পাননি। শ্রমিকরা খুব অসহায় অবস্থায় আছেন। একে লকডাউন, সেই সাথে সামনে ঈদ। এই সময় টাকা না পেলে তারা না খেয়ে মরবে।
শ্রমিকদের সুপারভাইজার হাফিজুল ইসলাম বলেন, বহিরাগত শ্রমিক পরিচ্ছন্ন কর্মীরা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। শ্রমিকদের হাজিরা সংক্রান্ত একটি জটিলতার কারণে মেয়র তদন্ত কমিটি করেছিলেন। তদন্তের রিপোর্ট তৈরি করে মেয়র মহোদয়ের কাছে দেওয়া হয়েছে। দেওয়ার পরের দিন তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চলে যান। মেয়র মহোদয় খুলনায় আসলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।