ডা. শৈলেন্দ্রনাথ সম্মুখসারির এক ব্যতিক্রম যোদ্ধা

খুলনায় করোনার ওষুধ প্রয়োগে প্রথম গবেষণা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : করোনাকালীন দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে খুলনার ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস সম্মুখসারির এক ব্যতিক্রম যোদ্ধা। এক সময়ে তিনি যুদ্ধ করেছেন ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে। আর ২০২০ সালে করোনা শুরু হলেও কাজ করেছেন সাহসীকতার সাথে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট করোনা শুরু হলে হাসপাতালের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ঢাকার বাইরে একমাত্র খুলনায়ই তাঁর নেতৃত্বেই করোনার ওষুধ প্রয়োগে গবেষণা হয়েছে। যে গবেষণা প্রতিবেদন জার্ণালে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। চিকিৎসা প্রদানসহ নানা বিষয়েই তখন তিনি বিড়ম্বনার শিকার হন। কী চিকিৎসা হবে। কিভাবে চিকিৎসা দিবেন, তা নিয়ে রাত-দিন পরিশ্রম করতেন। বাসায় ছোট দু’টি শিশু সন্তান থাকরেও তাদের ছেড়ে আলাদা বাসায় থাকতেন। গেল এক বছরের বেশী সময়ে কয়েকশ’ করোনা আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ তিনি করোনা ওষুধ রেমডেসিভি ও ফেবিপিরাভির নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ১০০ জন রোগীর ওপর ওষুধের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। যে প্রতিবেদন এখন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
খুলনার এক শীর্ষ ব্যবসায়ী বলেন, ‘ডা. শৈলেন্দ্রনাথ খুব আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা দিয়েছেন, অন্য চিকিৎসকরা যেখানে দূর থেকে দেখতো, সেখানে তিনি কাছে এসে সবকিছু পরীক্ষা করতেন। সাহস দিতেন। গভীর রাতে তাকে ফোন দিয়েও সেবা নিয়েছি।’
ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বলেন, করোনা প্রকোপ শুরু হলে, এ বিষয়ে আমাদের ধারণা ছিলনা, ভীতিকর পরিস্থিতি ছিল। ভয়ে অনেকেই আসতে চাইতেন না। কিন্তু আমার কখনো ভয় হয়নি। মানুষের সেবার বিষয়টি মাথায় নিয়ে কাজ করেছি। আমি কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় এই ঝুঁকি নেয়ার সাহস ছিল। আমি মনে করেছি, এটি নতুন যুগের মুক্তিযুদ্ধ। নিজে মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, তাই এটাকে যুদ্ধ মনে করেছি। অনেকে যুদ্ধে গিয়ে ফিরে আসেনি। এখানেও একই অবস্থা। ঘরে ছোট দু’টি সন্তানের কথা ভেবেছি; কিন্তু ভয় পাইনি।
এতো সফলতার পেছনেও কষ্ট কথা উল্লেখ করে ডা. শৈলেন বলেন, অনেক সহকর্মী আমার কাজে খুশী হতে পারেননি। তারা সহযোগিতা করলে আরও ভাল কিছু করা সম্ভব ছিল।
করোনার বর্তমান অবস্থায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক ব্যবহার করা ও সচতেন হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভয় নয়, করোনাকে জয় করার মানষিকতা তৈরি করতে হবে। তাহলেই করোনা হার মানবে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)