খুলনায় প্রভাষক চিত্তরঞ্জন হত্যা মামলায় ২ আসামির ফাঁসি

সর্বশেষ আপডেটঃ
ছবি: খুলনায় কলেজ শিক্ষক চিত্তরঞ্জন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনার শহীদ শেখ আবুল কাশেম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক চিত্তরঞ্জন বাইন (৪৫) হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৮ জন আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারি অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো এ আদেশ দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, রাজু মুন্সি ওরফে গাল কাটা রাজু ও তুহিন গাজী। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী তুহিন গাজী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন থাকলেও রাজু মুন্সি পলাতক ছিলেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, মো: আজিজুল ইসলাম, মো: মাহফুজ হাওলাদার, রাসেল, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, মো: শাওন শেখ, বাবু শেখ, আব্দুল্লাহ ও মো: সুলতান। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মুরাদ হোসেন গাজী এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, চিত্তরঞ্জণ বাইন শহীদ শেখ আবুল কাশেম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তিনি খুলনা থানাধীন ৫৯ শেরেবাংলা রোডস্থ আমতলা মোড়ে স্বপরিবারে বসবাস করতেন। ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি সকাল ১১টায় চিত্তরঞ্জনের স্ত্রী লাকী গোলদার তার দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে বটিয়াঘাটায় বেড়াতে যান। প্রতিদিনের ন্যায় পিটিআই মোড়স্থ নিজ নামীয় (চিত্ত স্যারের ব্যাচ) শেষ করে তিনি রাত সাড়ে ১০টায় আমতলা মোড়স্থ বাসায় অবস্থান করেন। ১৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১৫ জানুয়ারি সকাল সোয়া ১১টার মধ্যে যেকোন সময়ে ডাকাতির উদ্যেশ্যে ওই বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে আসামীরা। এরপর তাকে হত্যা করে হাত পা মুখ বাধা অবস্থায় তার লাশটি খাটের উপর ফেলে রাখে। ওই সময় ঘরে থাকা নগত টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য মালামাল (যার মূল্য দুই লাখ টাকা) লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় আসামীরা। এ ঘটনায় পরদিন ( ১৬ জানুয়ারি) নিহতের ভাই সুবোল বাইন বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন যার নং ১৩ । ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই কামাল উদ্দিন ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের স্পেশাল পিপি এড. আরিফ মাহমুদ লিটন। আসামী পক্ষে ছিলেন, এড. খান মো: লিয়াকত আলী, এড. শফিউল আলম সুজন, এড. কামরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

 

(ঊষার আলো-আরএম)