খুলনায় লকডাউনে নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে সংখ্যালঘু মুচি সম্প্রদায়ের

সর্বশেষ আপডেটঃ
42
0
ছবি: নগরীর সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মুচি সম্প্রদায়ের সদস্যরা মানবেতর দিনযাপন করেছে।

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনা নগরীর বিভিন্ন নিন্ম এলাকায় বছরের পর বছর ধরে বসবাস করে আসছে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী মুচি সম্প্রদায়ের মানুষগুলো। তাদের জীবনধারার মান আদী হতেই সেই নিন্মমানের। তাদের জীবনযাত্রার মানের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে করোনা ভাইরাস। সম্প্রতি সময়ে ভাইরাসের প্রার্দুভাবে নিন্মশ্রেনীর বঞ্চিত মুচি সম্প্রদায়ের সদস্যরা আর্থিক সংকটের কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ক্রমশ বেড়ে যাওয়া সম্প্রতি করোনা মহামারীর কারণে নতুন করে শুরু হয়েছে লকডাউন। যে কারনে সরকারী নিদের্শনা মেনে চলতে হচ্ছে সবাইকে, তাই সচেতন মহর বাইরে অনেকটাই কম বের হচ্ছে। তাছাড়া সামনে ঈদ তাই পুরানো জুতা-সেন্ডেল মেরামতের ব্যাপারে তেমন কারো মাথা ব্যাথা নেই। করোনা মহামারীর কারণে নতুন করে লকডাউন শুরু হওয়ায় সমাজের অতি নিন্মশ্রেনীরবঞ্চিত মহানগরীর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী মুচি সম্প্রদায়ের সদস্যরা আর্থিক সংকটের কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। নগরীর বিভিন্ন নিন্ম এলাকায় বছরের পর বছর ধরে বসবাস করে আসছে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী মুচি সম্প্রদায়ের মানুষগুলো। তাদের জীবনধারার মান আদী হতেই সেই নিন্মমানের। তাদের জীবনযাত্রার মানের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে করোনা ভাইরাস। সম্প্রতি চলমান এ ভাইরাসের প্রার্দুভাবে তারা আজ অনেইটাই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। প্রায় নব্বই দশকের আগে হতে এ জনগোষ্ঠীর লোকেরা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন মোড়ে মোড়ে ছোট কাঠের পাটাতনের উপর বসে কোন রকম কোনঠাসা অবস্থায় জুতা সেলাই করে আয় উপার্জন করে সংসারের ভরণপোষন চালিয়ে আসছিল। কঠোর পরিশ্রমি মুচি সম্প্রদায়ের এ অভাবী মানুষগুলি এখন সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। ফুটবলের মত গড়িয়ে গড়িয়ে চলছিল তাদের জীবন জীবিকা, তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ভয়াবহ থাবা তাদের জীবন যাত্রাকে দমিয়ে দিয়েছে। লকাউনের কারণে অলস সময়পার করছে এ সম্প্রদায়ের সদস্য অলোক দাস, রণজিত দাস, শিমুল দাস, নেধু দাস, শিবুপদ ও প্রশান্ত দাস। অলোক দাস প্রায় ১০/১২ বছর ধরে খুলনা কোর্ট চত্ত¡র মোড়ে কাজ করে আসছে। সে পুরাতন জুতা বিক্রয়সহ মেরামতের কাজ করেন। তিনি বলেন, করোনা আগে সকাল হতে রাত ১০টার মধ্যে ৪/৫শত টাকার কাজ করতাম কিন্তু বর্তমান সময়ে ৭০/৮০ টাকার মত কাজ করছি। খুব কষ্ট হচ্ছে একশত টাকা আয় করতে। বাড়ীতে স্ত্রী, ছেলে, মা ও চার ভাইয়ের আহারের ব্যবস্থা তাকেই করতে হয়।
প্রশান্ত দাস বলেন, করোনার প্রথম দিকে একবার ত্রান পেয়েছি। কিন্ত বর্তমান সময়ে খরিদ্দার নেই আয় কমে গেছে। সবমিলিয়ে ভালো নেই দৌলতপুরে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মুচি সম্প্রদায়ের সদস্যরা মানবেতর দিনযাপন করেছে। অনেকটাই তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে।

(ঊষার আলো-আরএম)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ