চাঁদের বরফ খুঁজবে নাসার রোবটযান ‘ভাইপার’

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : চাঁদে পানি কিংবা বরফ আছে কিনা, তা নিয়ে বহুদিন থেকে বহুমাত্রার গবেষণা ও চেষ্টা চলে আসছে। সব দেশই নিজের মতো করে এ অভিযানে নেমেছে। কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে সে বিষয়ে। তবে এখনও বহু তথ্য জানার অপেক্ষায় মানুষ। এরই মধ্যে নাসা নেমেছে এই সংক্রান্ত নতুন এক অভিযানে।

চাঁদে বরফের খোঁজে আবারও যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। চাঁদে কোথা থেকে বরফ এল, আর কীভাবেই বা এল, কীভাবে তা কোটি কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত থাকল চাঁদের বুকে- এসব প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজা হবে।

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঘোষণা করেছে, ২০২৩ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর একটি অঞ্চলে বরফ খোঁজার জন্য এক বিশেষ রোবট যান বা ‘রোভার’ পাঠানো হবে। আর এটিকে বলা হচ্ছে ‘ভোলাটাইলস ইনভেস্টিগেটিং পোলার এক্সপ্লোরেশন রোভার’ বা ‘ভাইপার’। আর যে অঞ্চলে ওই রোভার বরফের খোঁজ করবে তার নাম ‘নোবাইল ক্রেটার’।

নাসার বিজ্ঞানীদের আশা যে, তাদের পাঠানো এ বিশেষ রোবট যানটি এবার চন্দ্রপৃষ্ঠের নিচে বরফ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে। এবং পরে এই বরফ আগামি দিনে রকেটের জ্বালানিতে রূপান্তরিত করে তা মঙ্গলগ্রহ বা মহাকাশের আরও গভীরে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করাও সম্ভব হবে।

নাসার প্ল্যানেটরি সায়েন্স বিভাগের পরিচালক বলেছেন, ‘নোবাইল ক্রেটার চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবস্থিত, যা মহাকাশের অন্য কোনো বস্তুর সাথে সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়েছে। ওই অঞ্চল সৌরজগতের অন্যতম শীতল এলাকা ও তা দূর হতে সেন্সর ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ‘ভাইপার’ চন্দ্রপৃষ্ঠে কয়েক ফুট পর্যন্ত গর্ত করতে পারবে। আর রোভারটির ওজন হবে ৪৩০ কেজি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, মঙ্গল গ্রহে যেসব রোভার পাঠানো হয়েছে, সে তুলনায় ভাইপারকে আরও দ্রুত নির্দেশ পাঠানো যাবে। আর এটি চলবে সৌরশক্তিতে। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই এটিকে তৈরি করা হয়েছে। এবং এতে থাকা সৌর প্যানেলটি চার্জের জন্য সব সময় সূর্যের দিকে মুখ করে রাখা হবে।

উল্লেখ্য, আমেরিকা চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে ‘আর্টেমিস’ নামের যে মিশন পরিকল্পনা করেছে, ভাইপার তারই একটি অংশ।

(ঊষার আলো-এফএসপি)