ঢাকায় চুরির বাস খুলনায় উদ্ধার : মালিকানায় জটিলতা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো ডেস্ক : ঢাকার তেজগাঁও থানার খামারবাড়ি মোড় থেকে চুরি হওয়া যাত্রীবাহী হিনো চেয়ার কোচ (বাস) খুলনার খালিশপুর থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) রাত ৮টায় খালিশপুর বিআইডিসি রোডস্থ প্লাটিনাম মিল গেট থেকে এসআই শাহ আলম হাওলাদার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এ বাসটি উদ্ধার করেন। যার নং-ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৩৮৫৮। এ ব্যাপারে তিনি খালিশপুর থানায় জিডি করেন।
উদ্ধারকৃত বাসটি প্রথমে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বুধবার (১৪ এপ্রিল) আদালতে প্রেরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টিউটিকালীন সময় অফিসার জানান, ৯৯৯ জরুরী সেবা থেকে ফোন করে জানিয়েছে খালিশপুর বিআইডিসি রোডস্থ মানীষা নাসিং হোমের সামনে সড়কে একটি বাস পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাসটি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চুরি করে এনে ওইখানে রেখেছে। আপনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। সে মতে, আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি দেখতে পেয়ে মালিককে খুঁজতে থাকি। কিন্তু কাউকে না পেয়ে বিষয়টি ওসিকে অবগত করি। তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। সে মতে, আমি বাসটি জব্দ করে রেকার দিয়ে টেনে থানা হেফাজতে রাখি। বাসের প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ ঢাকা বরাবর পত্র প্রেরণসহ সকল থানা বরাবর বেতার বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। অবগতি ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণেল জন্য প্রতিবেদন প্রেরণ করলাম।
এদিকে গত ১০ জানুয়ারি বাসটি ঢাকার খামারবাড়ি মোড় থেকে চুরি হয়ে যায় মর্মে বাস মালিক আঃ মালেক বাদী হয়ে ঢাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার পিটিশন নং-১৬৭/২১। ধারা ফৌজধারী কার্যবিধি ৯৮ ধারা। বাদী ঢাকা তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেট ৩১/২, মনিপুরীপাড়ার বাসিন্দা মৃতঃ ছামসুদ্দীনের ছেলে। মামলায় বাসের ভাড়াটিয়া শাকিনুর রহমান সাগর(৪৫) ও ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে বাস ক্রয়কারী শাফিকুল ইসলামকে (৫০) আসামী করা হয়েছে।
বাদীর ভাই জাহিদুল ইসলাম জানান, আমার ভাইয়ের কাছ থেকে মাসিক ভাড়া ৯০ হাজার টাকা চুক্তিতে শাকিনুর রহমান সাগর বাসটি ভাড়া নেন। কিছু দিন না যেতেই সে এসে বলে বাসটি চুরি হয়ে গেছে। ভাড়ার টাকা দেয়া হবে না। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাসটি শাকিনুর রহমানের নিকট পাওয়া যায়। বাস ফেরৎ চাইলে সে বলে, বাসটি শাকিনুর রহমান সাগরের নিকট থেকে ক্রয় করেছেন। এ পর্যায়ে চক্রটি বাসটিকে চুরি হয়েছে বেল প্রচার করে নিরব বসে থাকে। এ ঘটনায় আমার ভাই ওই দু’জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করেন। যার স্মারক নং-৫৯৭, তাং-১২/৪/২১ইং। সে সার্চ ওয়ারেন্ট মতে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাসটি খুঁজতে থাকেন। অবশেষে তারা খুলনার খালিশপুরে বাসটি দাঁড়ানো অবস্থা দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নাম্বারে কল দিয়ে বাসটি উদ্ধারে সহযোগিতা চান। সে মতে, খালিশপুর থাান পুলিশ বাসটি উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে রেখেছে।
খালিশপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ কাজী মোস্তাক আহমেদ বলেন, চোরাইবাসটি উদ্ধার করার পর তিনজন মালিক সেজে এসেছেন। এ জন্য সমস্যা সমাধানে কাগজপত্র যাচাই করার জন্য ঢাকা বিআরটিএ-কে পত্র দেয়া হয়েছে। বিআরটিএ থেকে মালিকানার কাগজ আসার পর আদালতের সিদ্ধান্ত মতে বাসটি প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

(ঊষার আলো-এমএনএস)