ঢিলেঢালায় খুলনার দ্বিতীয় দিনের লকডাউন

সর্বশেষ আপডেটঃ
29
0
খুলনার দৌলতপুরের চিত্র - ঊষার আলো

চলছে মোটরসাইকেল, রিক্সা ও ইজিবাইক নিচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া
নগরীর বাজার ও ওলিগলি এবং উপজেলায় নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই
দুই দিনে জেলা প্রশাসনের অভিযানে মোট জরিমানা ৮৮ হাজার টাকা
গতবারের ন্যায় পুলিশি তৎপরতা নেই নগরীতে

ঊষার আলো প্রতিবেদক : লকডাউনে খুলনায় চলছে ইজিবাইক, রিক্সা ও মোটরসাইকেল। বাজার আর ওলিগলিতে নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই। লকডাউনকে সামনে রেখে বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। প্রয়োজনীয় কাজে অতিরিক্ত অর্থব্যায় করে যাতায়াত করছে সাধারণ মানুষ। লকডাউন নিশ্চিতে প্রথম দিনে ৮৫ মামালায় ৫৪ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা আদায়। দ্বিতীয় দিনেও অভিযান চলছে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের।
পহেলা রমজান ও লকডাউন উপলক্ষে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার নগরীর প্রধান-প্রধান সড়কগুলোতে ছিল শুনশান নিরবতা। তবে ওলিগলি ও বাজারগুলোতে ছিল মানুষের ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই ছিল না সেখানে। গতকাল দুপুর একটায় নগরীর বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই সেখানে। নিত্যপ্রয়োজনিয় জিনিষের দাম রমজানের এক মাস থেকে যে উর্ধ্বমুখী ছিল একদিনের লকডাউনে তা বেড়ে গেছে আরও ১০ থেকে ১০০টাকা পর্যন্ত। বড় বাজারে রোজার ইফতারের জন্য ফল কিনতে আসা একজন ক্রেতা জানান, গত দুই তিন দিন আগে যে আঙ্গুর কিনেছি ১৮০ টাকায় এখন তা ২৮০টাকা। বেড়েছে আপেল, কমলাসহ অন্যান্য ফলের দাম।
কাঁচাবাজার করতে আসা একজন বলেন, আদা ও পেঁয়াজ, চিলি, ছোলার দাম বেড়েছে এক দিনের লকডাউনে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পহেলা বৈশাখ, লক ডাউন, পহেলা রমজান উপলক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরে বাজারে পণ্যের চাহিদা রয়েছে বেশি। কিন্তু সাপ্লাই কম থাকার কারণে তারা দাম বেশি রাখছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীদের যখন বলা হলো লক ডাউনের জন্যতো পণ্যপরিবহন বন্ধ নেই। তখন তারা আর কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে রয়েছেন।
মসলা পট্টির বাইরে বেশ কিছু দোকান দেখা গেছে তাদের লকডাউনে বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তারা খুলে বসে আছেন। কেউ-কেউ অতি চালাকি করে শাটার অর্ধেক খুলে বসে আছেন। কেউ আবার শাটার বন্ধ করে দোকানের মধ্যে একজন দোকানের বাইরে অবস্থান করছেন। মিডিয়া ও প্রশাসনের গাড়ি দেখলে তারা বন্ধ থাকে। মিডিয়া ও প্রশাসন চলে গেলে আবার যা তাই হয়ে যায়।
নগরীর অলিগলি ও পাড়া মহল্লার অবস্থাও একই রকম। নাগরিক সমাজ অভিযোগ করছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ অভিযান পরিচালনা করলেও এ বছর পুলিশের তেমন কোন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। এ কারনেই অলিগলি সর্বত্র লক ডাউন কার্যকর হচ্ছে না।
লকডাউনের প্রথমদিন বুধবার পর্যন্ত খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট গণ অবিযান পরিচালনা করে ৮৫ মামালায় ৫৪হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। দ্বিতীয় দিন বৃহষ্পতিবার ৮৭ মামলায় ৩৩ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দেবাশীষ বসাক বলেন, তার টিম বিকালে সাত মামলায় ৮ হাজার ৫শত টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। বিকালে আরও দুইটি টিম কাজ করেছে।
এদিকে সোনাডাঙ্গা থেকে কোন পরিবহন চলাচল না করলেও দেদাড়ছে চলছে মোটরসাইকেল ইজিবাইক। সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে কয়রা থেকে আসা এক যাত্রী বলেন, মোটরসাইকেল যোগে ৭শ’ টাকা ভাড়া দিয়ে খুলনায় পৌছেছি। নড়াইল থেকে আসা একজন ঠিকাদার বলেন, যেখানে দুই শত টাকা লাগে সেখানে ৫শত টাকা খরচ করে এসেছি। এখন আবার অতিরিক্ত টাকা খরচ করে কয়রা যেতে হবে। তবে ইজিবাইক চালকরা বলছে, পেটের দায়ে রাস্তায় নামছি। যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালাচ্ছি। তবে নগরীতে জরুরী সেবার বাইরেও মটরসাইকেল ও অন্যান্য পরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। সোনাডাঙ্গা কাঁচাবাজারেও পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই সেখানেও।

দৌলতপুরে চলাচল স্বাভাবিক: দেশে হুড় হুড় করে বেড়ে যাওয়া করোনা সংক্রমনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার দরুন ১৪ এপ্রিল হতে পুনরায় আটদিনে কঠোর লকডাউনের চলছে। প্রতিদিনই অতীতের রেকর্ড ব্রেক করে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমন রোধে প্রশাসন কঠির পদক্ষেপের মুখে ও দৌলতপুরে জনজীবনের চলাচলা স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে হয়েছে। কারো মধ্যেই কোন ভয় বা ভীতির কাজ করছে না যে করোনা সংক্রমিত হওয়ার আতংক। খুলনা জেলা প্রশাসনের নিয়মিত করোনা সংক্রমন রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর নিয়মিত অভিযান অব্যহত রাখলেও সংক্রমন রোধে তেমন কোন ফলপ্রসূ দিক উঠে আসছে না।
অপর দিকে নতুন করে ৮ দিনের লকডাইন ঘোষনার প্রজ্ঞাপনের মধ্যে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মরদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বড়ির বাইরে বের না হওয়া, তবে টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়ত করা যাবে। অতি প্রয়োজনে পুলিশ মুভমেন্ট পার্স দাখিল করতে হবে। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরা দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে নির্দেশরোপ করা হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, ঔষুধ কিনতে যাওয়ারসহ নানান অজুহাতে নিয়মের কোন তোয়াক্কা করছেনা দৌলতপুরের অধিংকাশ মানুষই ঘরের বাইরে আসছে এবং মহাসড়কের যানচলাচল অনেটাই স্বাভাবিক। তবে মোড়ে মোড়ে পুলিশের টহল ও চেক পোষ্টের মাধ্যমে মহাসড়কে ব্যাপক কঠোর অবস্থান নিলেও পুলিশের এই ভূমিকায় মিলছে কোন ফল।
সরেজমিনে, রমজানের কেনাকাটায় সকাল হতেই দৌলতপুরের মুদি দোকানে, মাংস পট্টি, চালের দোকান, মুড়ি-চিড়া পট্টি, খাশি-মুরগীর পট্টি, ফলের বাজার, মাছের বাজার, কাঁচা মালের দোকান, দুধের দোকানসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়ে ক্রেতারা উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। করোনা কথা ভুলে গিয়ে মানুষ স্বাভাবিক দিনের মতোই মানুষের স্বাভাবিক চলাচল দেখা যায়। বিশেষ করে দৌলতপুরের বাজার কেন্দ্রীক মানুষের এতই জনসমাগম ঘটছে যে দেখে বোঝার উপয় নেই, দেশে মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে সরকার কর্তৃক ৮ দিনের লকডাউন চলছে। একেই তো জনসমাগম, অন্যদিকে অনেকের মুখে মাস্কই নেই।
প্রজ্ঞাপনের নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত বাদেও যে সব যানবহন চলাচল বন্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেই যানবহন গুলো পুড়া শহর দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর মধ্য বেশি নজরে পড়ছে দৌলতপুরে ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, বিশেষ করে ইজিবাইক আর ইঞ্জিলচালিত রিক্সা-ভ্যানের চলাচলা ছিল চোখে পড়ার মতো। ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মহাসড়কে চলাচলরত ইজিবাইক আটক করে থানায় নিয়ে যায় দৌলতপুর প্রশাসন।
দৌলতপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ বলেন, উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা ইতিমধ্যে ইজিবাইক আটোরিক্সা-ভ্যান আটক শুরু করেছি। এ বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে আসার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাছাড়া সকল মার্কেট-দোকান পাট বন্ধের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করছি।
৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে নইলে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে। সরকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য লকডাউন দিয়েছে। প্রতিদিনেই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতারং নিজের এবং নিজের পরিবারের কথা ভেবে বিনা প্রয়োজনে ঘরে বাইরে না আসা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং মাস্কসহ সরকার নির্দেশিত সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত।

খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরী তাসমিন উর্মি জানান, কোভিড-১৯ এর সংক্রমন রোধে যে ৮ দিনের লকডাউন দেয়া হয়েছে তার বাস্তবায়নে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনে নিয়মিত অভিযান অব্যহত আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাস্ক পরিধান না করার অপরাধে মোট ৩ টি মামলায় একহাজার আটশত টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)

+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ