তামাকপণ্যে কর ও মূল্যবৃদ্ধির দাবি

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : তামাকপণ্যের সুনির্দিষ্ট করসহ মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট সভায় এই দাবি জানিয়েছে গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠনটি। সভায় আত্মার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবি বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ৮ লাখ অকাল মৃত্যু রোধ হবে এবং ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিগারেটের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে প্রায় একই রকম রয়েছে। করের ভিত্তি এবং করহার খুবই কম হওয়ায় সিগারেট, বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য (জর্দা ও গুল) অধিক সহজলভ্য থেকে যাচ্ছে। দেশের বর্তমান তামাক কর অত্যন্ত জটিল, যা মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে যথেষ্ট নয়। ফলে বিদ্যমান তামাক কর ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারছে না। বাংলাদেশে এখনো প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক (ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন) ব্যবহার করে, ধূমপান না করেও প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিভিন্ন পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন (গ্যাটস ২০১৭)।
তামাক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির (চিকিৎসা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হারানো) পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। তামাকের দাম বেশি হলে তরুণ জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং তামাকাসক্তরাও বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ছাড়তে উৎসাহিত হবে।

 

(ঊষার আলো-এম.এইচ)