দৌলতপুরে লকডাউনেও কর্মহীনদের স্বস্তি নেই এনজিও’র কিস্তি পরিশোধে

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনায় লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধিসহ মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়া দরুন, প্রতিদিনই রেকর্ড গড়ছে খুলনা বিভাগ। যেকারণে খুলনা জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি পুনরায় ২৯ জুন হতে আবার ৭ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষনা করেছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়ে যাওয়া এবং বিশেষ করে খুলানাঞ্চল রেড জোনে পরিণত হওয়ায় কারণে আরোপ করা হয়েছে ১ জুলাই হতে সারাদেশব্যাপী ৭ দিনের সর্বাত্বক কঠোর কঠোর লকডাউন।
লকাডাউন চলাচালীন প্রজ্ঞাপনে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে এমনই আদেশ জারী করা হয়েছে। তবে সুধী মহলের প্রশ্ন? এনজিও সংস্থা গুলো কোন জরুরী সেবার আওতায় পড়ে, যারা অফিস বন্ধ দেখিয়েও গোপন কর্মীদের দিয়ে মহামারীর এই দূর্যোগময় মুহুর্তে গোপনে ঋণ আদায় করছে! একাধীক ঋণ গ্রহীতারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা ভাইরাস হতে মুক্তি মিললেও এনজিও’র লোকের হাত হতে রক্ষা মিলছেনা। সম্পূর্ন কিস্তির টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত বসেই থাকে, যেন নাছড় বান্দা। করোনা ভাইরাসে তো মৃত্যু দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে কিন্তু করোনার চেয়ে বড় ভয়াবহ ব্যাধি হল এনজিও গুলোর কিস্তি কারণ মরলেও অন্যত্র কাউকে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হবে। সম্প্রতি করোনা মহামারীর এই দূর্যোগময় মুহুর্তেও যে দীর্ঘ লকডাউন চলছে তাতে করে নিন্ম আয়ের মানুষগুলো সম্পূর্ন বেকার আর কর্মহীন হয়ে পড়েছে। করোনার প্রকোপে সমাজের তৃনমূল পর্যায়ের মানুষ গুলো বিশেষ করে কুলি, দিনমুজুর, রিক্সাওয়ালাসহ খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর দিন কাটছে চরম অভাব আর দুর্দিনে। তারপরও পরিবারের সদস্যদের রুটি রুজি জুটবে কিনা তা ভূলে গেলেও সমিতির কিস্তির টাকা যোগাড় করে ঘরে ফিরতেই হচ্ছে। তা না হলে গলমন্দ, কিস্তি নেয়ার সময় মনে ছিল না এমন নানা বাজে কথা শুনতে হয় ঋণ আদায়কারীদের। এ সকল মানুষের কাছে বর্তমানে করোনার আতংকের চেয়ে বড় আতংক এনজিও গুলোর কিস্তি। এনজিও বা ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে যেসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহ খেটে খাওয়া মানুষ ঋণ গ্রহন করেছে, সম্প্রতি লকডাউনের মুখে সংস্থার কর্মকর্তাদের চাপে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে দম বন্ধ হয়ে আসছে তাদের। নগরীর দৌলতপুরে রয়েছে বেশ কয়েকটি এনজিও’র ব্রাঞ্চ অফিস। এগুলোর মধ্যে, ব্রাক, আশা, ব্যাুরো বাংলাদেশ, দুঃস্থ কল্যান সংস্থা, জাগরণী চক্র, সিএসএস, সহ আরো বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য এনজিও সংস্থা। তাছাড়া বর্তমান সময়ে ব্যাঙ্গের হাতার মতো গজিয়েছে লোকাল দৈনিক আদায়ের একাধিক সংস্থা। এনজিও সংস্থার কর্মীরা গোপনে সুকৌশলে ঋণ আদায় করছেন তাও আবার সম্পূর্ন কিস্তির টাকা। কাঠ ব্যবসায়ী লিটনের দীর্ঘদিন কাঠের কাজ নেই, তবুও ধার দিনা করে কিস্তি দিতে হচ্ছে। নইলে ছাড়ছেনা ঋণ আদায় কর্মীরা। দৌলতপুর ঋষিপাড়া ব্যবসায়ী কিস্তি নিয়েছেন দুঃস্থ কল্যান সংস্থান হতে, তাকেও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। চাপ সৃষ্টি করে টাকা আদায় করা হচ্ছে পাবলা বণিকপাড়া হতে একাধীক গ্রাহকের নিকট হতে। ব্রাক ম্যানেজার দৌলতপুর শাখার চাপে ১ জুলাই ঝম ঝমে বৃষ্টির মুখেও কিস্তির চাপ হতে রক্ষা মেলেনি ৫নং ওয়ার্ড কেসিসি মার্কেটের টেলিকম ব্যবসায়ী আসাদের, যে বর্তমানে ধারদেনা করে করে তার দোকান ভাড়া পরিশোধ করছেন। অনেকই গ্রাহকই বলছেন, বর্তমানে এনজিও গুলো সুকৌশলে কিস্তি আদায় করছে। এটা অনেকটাই- ধরি মাছ না ছুই পানি। এ অভিযোগ অস্বীকার করে আশার রিজিওনাল ম্যানেজার মোঃ ফারুক হোসেন জানান, আমাদের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রনালয়, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে ঋন আদায়ে নির্দেশনা দেয়া আছে। আমরা কোন জোর জুলুম করে ঋন আদায় করছিনা, বরং স্বেচ্ছায় ঋণ গ্রহীতা যে পরিমান কিস্তির টাকা দিচ্ছে আমরা তাই গ্রহন করছি।
(ঊষার আলো-এমএনএস)