দৌলতপুরে সর্বাত্মক লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনায় লাফিয়ে-লাফিয়ে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধিসহ মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার দরুন খুলনা জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি পুনরায় ২৯ জুন হতে আবার ৭ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে। তাছাড়া কেবল খুলনা নয় দেশের সার্বিক করোনা সংক্রমনের পরিস্থিতি উর্ধ্বমুখী হওয়ার দরুন ১ জুলাই হতে সারাদেশব্যাপী ৭ দিনের সর্বাত্বক কঠোর লকডাউনের সিধান্ত নিয়েছে সরকার, সে অনুসারে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সরকার ঘোষিত সর্বাত্বক লকাডাউনের ছিল প্রথম দিন। এই ধারাবাহিকতায় নগরীর দৌলতপুরে সরকার ঘোষিত সর্বাত্বক লকডাউন বাস্তবায়নে দৌলতপুর থানাধীন এলাকার নতুনরাস্তা, ট্রাফিক মোড়, মানিকতলা মাইলপোষ্ট, কবির বটতলা, নগরঘাট, রেলিগেট, কৃষি কলেজ, চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে।

দৌলতপুর ট্রাফিক মোড়ের চেকপোষ্টে পুলিশের টহল ছিল নজরকাড়া, পাশাপাশি খুলনা-যশোর মহাসড়কে সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র টহল প্রতীয়মান হয়েছে। মোটর বাইক, মাহেন্দ্র, সিএনজি, ইজিবাইক, ইজ্ঞিন চালিত যানবহন আটকপূর্বক বন্ধ করে দেয় পুলিশ সদস্যরা। যদিও কোন যানবহন ছাড়া হয়েছে তবে উপযুক্ত কারনদর্শীয়ে যেতে হয়েছে। তবে কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে নগরীর দৌলতপুরের সকল দোকানপাটই ছিল বন্ধ। সমগ্র খুলনা-যশোর মহাসড়ক ছিল যানবহন শূন্য প্রায়। ৭ দিনের লকডাউনের প্রজ্ঞাপনের বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ, খাবারের দোকান, হোটেল-রোঁস্তরা সকাল ৮টা হতে রাত ৮টা তবে পার্সেল আকারে বিক্রি করা যাবে, কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে, জনসমাবেশ, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে, গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), সরকারী-বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবা, ব্যাংক, ঔষুধের দোকান, জরুরী নিত্যপণ্য সংগ্রহ লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে, অতি জরুরী ছাড়া বাড়ীর বাইরে যাওয়া যাবে না এমনই আদেশ জারী করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, সারাদেশসহ বিশেষ করে সম্প্রতি সময়ে খুলনার করোনা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে চলেছে। ১ জুলাই হতে ৭ দিনের সর্বাত্বক কঠোর লকডাউন ঘোষনা করেছে সরকার। মানুষের জীবনের নিরাপত্তার জন্য এই লকডাউন যে কোন মূল্যেই বাস্তবায়ন করা হবে। লকাডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ সর্বক্ষন মাঠে থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মাদ আলী বলেন, স্বাস্থ্যবিধির না মানার প্রতিনিয়ত সংক্রমনের সংখ্যা লাগিয়ে-লাফিয়ে চলছে। পত্র-পত্রিকায় দেখলাম প্রতি ১৫ মিনিটে ১ জন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। চলছে লাশের মিছিল। আমরা সচেতন হলে বারবার সরকারকে আর লকডাউন বা কঠোর বিধি নিষেধ দিতে হতো না। সুতারং জনপ্রতিনিধি হিসাবে বললে চাই আজ হতে যে সাতদিনের লকডাউন দেয়া হয়েছে সংক্রমন রোধে তার যথাযথ পালন করা উচিত।
খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড রাকিবুল হাসান দৌলতপুর সরেজমিনে এসে জানান, সম্প্রতি সময়ে করোনা সংক্রমনে বেড়ে যাওয়ার দরুন ১ জুলাই হতে ৭ দিনের সর্বাত্বক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সুতারং ঘোষিত সাতদিনের লকডাউনের বিধি নিষেধ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সংক্রামক রোগ ( প্রতিরোধ,নিয়ন্ত্রন ও নির্মল ) আইন, ২০১৮’ এবং দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার অপরাধে ৫টি মামলায় জরিমানা করা হয়েছে।
(ঊষার আলো-এমএনএস)