নগরীতে ঠান্ডা জনিত রোগ জ্বর-সর্দিতে বাড়ছে করোনা আতংক, ছড়াচ্ছে গুজব

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : সম্প্রতি খুলনা জেলায় করোনার শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর দৌলপতপুরবাসী বেশ আতংকিত। বিশেষজ্ঞরা করোনার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, শ্বাস-প্রশাসে কষ্ট, গলায় ব্যাথা, গায়ে ব্যাথাসহ মাথায় তীব্র ব্যাথার কথা জানিয়েছেন। এ লক্ষণগুলো দেখা দিলে কারোনা পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে হচ্ছে ফলাফল পজিটিভ না নেগেটিভ। এমন মহামারীর মুহুর্তে স্বাভাবিকভাবে রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে গায়ে জ্বর-জ্বর অনুভূত হলে আর রেহাই মিলছে না, গুজব উঠছে করোনার। এ গুজবে ছড়িয়ে পড়ায় আতংকিত হয়ে পড়ছে সমগ্র এলাকার মানুষের মাঝে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোপ বাড়াতে শিশুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যও ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে ভয়ের কিছু নেই। দৌলতপুরের একাধীক ফার্মেসীর মালিকগণ জানিয়েছেন, ফার্মেসী বর্তমানে জ্বরের ওষুধ বিশেষ করে নাপাসহ শিশুরোগের এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, মন্টিলুকাস্ট, কিটোটোফেনসহ লিভো সালভিউটামল ওষুধের চাহিদা বেশ বেড়েছে। তাছাড়া বর্তমানে প্রতিটি বাড়িতে জ্বর লেগেই আছে বলে জানান তারা। দৌলতপুর থানাধীন এলাকার সম্প্রতি নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর কারণে দৌলতপুরে সর্বত্র আতংক বিরাজ করছে।
তবে থানাধীন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলোতে করোনায় আক্রান্ত হয়নি, দিব্বি সুস্থভাবে হেটে চলে বেড়াচ্ছে, এমন ব্যক্তির ব্যাপারে উদ্ভট গুজব ছড়িয়ে এলাকাটিকে আরও আতংকগ্রস্ত করে তুলছে কিছু সংখ্যক মানুষ।
সরেজমিনে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, উত্তর মিলছে লোকের মুখে শুনছি। নগরীর ঋষিপাড়া এক ব্যবসায়ী অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছোট ভাই মিলন বর্তমানে দোকান ভাড়া দিতে পাড়ছেনা বিধায় ড্রেনের স্লাবের ওপর একটু কায়দা করে বসে পান-সিগারেটের দোকান দিয়েছে, লোকে মুখে বলতে শুনেছি, মিলনের জ্বর ওর করোনা হয়েছে। আমি ওর ভাই, আমি জানি ও দিব্বি সুস্থ্য। করোনা শোনার পর কেউ আর ওর দোকানের দিকে যাচ্ছে না।
দেয়ানা বাগান বাড়িতেও একাধিকের মুখে একজন চাকুরজীবীসহ একজন গৃহিনীর করোনা শনাক্তের ব্যাপারে শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল বৃষ্টির পানি গায়ে লাগার কারণে নামে মাত্র গা গরম। অপরদিকে অন্যজন শুয়ে-শুয়ে টিভি দেখছে। একশ্রেনীর ব্যক্তি এ সকল গুজব ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এমন কর্মকান্ডে সমগ্র এলাকা আতংকগ্রস্ত। সুধী সমাজের দাবি এমনিতেই এলাকায় করোনার কারণে বেশ আতংকিত, অন্যদিকে করোনার গুজব ছড়ানোর জন্য আরও আতংক বাড়ছে। এসকল গুজবকারীদের বিরুদ্ধে আইননানুক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন সুধী সমাজের।
এ ব্যাপারে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মাদ আলী জানান, সম্প্রতি খুলনার অবস্থা দারুন খারাপ। চারদিকে করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং সকলকে এ মহামারীকালীন সময়ে খুবই সাবধান থাকতে হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তবে দুঃখজনক এ আতংকগ্রস্ত সময়ে এক শ্রেনীর মানুষ সামান্য জ্বরে কেউ আক্রান্ত হলে জেনে না জেনে তার ব্যাপারে করোনা হয়েছে এমন প্রশ্ন তুলে মানুষকে বিভ্রাট করে তুলছে। কিন্তু সকলের জানা উচিত, কোন তথ্য সঠিক না জেনে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে বলে জানান এ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
তবে হ্যাঁ করোনা আতংকের বিরাজ করলেও দৌলতপুরে অধিকাংশ জায়গায় জনাসমাগম, সকলেই মাস্ক ছাড়া বিচরণ, নিরাপদ দূরত্ব বাজায় না রেখে ইচ্ছা-স্বাধীন মতো ছুটছে। নেই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা। নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী টিপু জানান, বর্তমানে দৌলতপুরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অধিকাংশ লোকেরা চলাচল করছে। যাদের মুখে মাস্ক নেই, নেই সামাজিক দূরত্বও । সকলের নিজের এবং নিজের পরিবারের কথা ভেবে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
প্রতিদিনই নতুন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে মানুষ তবুও দৌলতপুরে জনসমাগমের কমতি নেই। নেই সচেনতা। তাই দৌলতপুর যেন ঝুলছে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকির মধ্যে। তবে ভূলে গেলে চলবেনা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)