নগরীর দৌলতপুর বাজারের সবজি পানির দরে, নেই কাঙ্খিত ক্রেতা

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : কয়েকদিন পরেই বর্ষা। তাই তড়িঘড়ি করে ক্ষতের উৎপাদিত সবজি দ্রুতই হাটে তুলে বিক্রি করে দিতে হবে, নইলে বৃষ্টির কারণে আম-ছালা দু’ই যাবে- এমন বক্তব্য যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, চিলহাটি, রংপুর, সৈয়দপুর, উত্তর অঞ্চলসহ স্থানীয় শাহাপুর, চুকনগর, কেশবপুর, মনিরাম, বটিয়াঘাটাসহ দূর-দূরন্ত হতে দৌলতপুর সবজি বাজারে আসা প্রান্তিক চাষিরা। যে কারণে দৌলতপুর বাজারে প্রচুর সবজির সরবরাহ। যে কারণে দৌলতপুর পাইকারি বাজারে সবজি মিলছে পানির দরে। সরবরাহের তুলনায় ক্রেতা কম। এক কথায় বলা যায় বাজার যেন ক্রেতা শূন্য। সবজির খুচরা ও পাইকারি কাঁচা বাজারগুলোতে সবজি চাহিদার তুলনায় অধিক সরবরাহ হওয়ার দরুন সবজির বাজারে ধ্বস নেমেছে। পাইকারি কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তীব্র গরমের কারণে অনেক খুচরা ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা ব্যবসা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন। যে কারণে এ শ্রেনীর ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাজারে সম্পূর্নভাবেই কমে গিয়েছে। তাছাড়া বড় একটি কারণ হলো দৌলতপুর খালিশপুর পাটবান্ধব এলাকা, যেখানে হাজার-হাজার শ্রমিক কাজ করে। পাটকল বন্ধের দরুন পাইকারি বাজারে প্রচুর পরিমানে জনসমাগম কমে গেছে। আগের সেই কেনা-বেচা আর পাইকারি বাজারে নেই বলে জানিয়েছেন বাজারে ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন ভোর ৪/৫টা হতে মেলে দৌলতপুর পাইকারি কাঁচাবাজার। সর্বোচ্চ সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে বাজারে তেমন সবজি থাকে না। তবে সম্প্রতি সময়ে দিনের এক তৃতীয় অংশ সময় অর্থাৎ দুপুর গড়িয়ে গেলেও ব্যবসায়ীদের আড়ৎতে থাকে পর্যাপ্ত পরিমানে সবজি। সম্প্রতি সময়ে সবজি পানির দরে মিললে সাড়া মিলছেনা কাঙ্খিত ক্রেতার, ফলে ব্যবসায়ী বেশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রান্তিক কৃষকেরা জানান, সবজির দাম না থাকায় তাদের উৎপাদন খরচ উঠছে না বরং পরিবহন ভাড়া আরো ঘাটতি গুনতে হয়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করা সবজির দাম কৃষক না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে তবু অধিক উৎপাদন হওয়ার এই সবজি বিক্রি না করতে পারলে ক্ষেতের সবজির নষ্ট হওয়ার ভয়ে কোন রকম নামে মাত্র পানির দরে বিক্রি করছে ব্যাপারীদের কাছে। এমনই মন্তব্য করছেন যশোর হতে দৌলতপুর বাজারে আসা একাধীক কৃষকেরা। দৌলতপুর পাইকারী কাঁচা বাজারে বর্তমানে সকল সবজির কোন কাঙ্খিত মূল্য নেই তাই কেনাবেচায় নেই কোন আগ্রহ ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ভোর ৪টা হতে শুরু করে দৌলতপুর পাইকারি এই সবজির বাজার চলে ১০/১১ টা পর্যন্ত। আর খুচরা বাজার সকাল ৮টা হতে শুরু করে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। বর্তমানে দৌলতপুর পাইকারী বাজারে বেগুন ১৫ টাকা, পটল ১০ টাকা, কুমড়া ১০ টাকা, পানি কচু প্রতি পিচ ৮ টাকা, ঝাল ২০ টাকা, কাঁচা আম ১০ টাকা, ডাটা ১০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, খিরাই ১৮ টাকা, কুশি ১০ টাকা, পুইশাক ৫ টাকা, বটবটি ১৫ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, আলু ১৫ টাকা, ঝিঙে ১৫ টাকা, উচ্ছে ৩০ টাকা, কাকরোল ৩৫ টাকা, ঢেড়শ ২০ টাকা, পেয়াজ ৩৫ টাকা, রসুন ৩৫ টাকা, কাঁচকলা হালি ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী দৌলতপুর বাজার কমিটির সাবেক মেম্বার জামাল। তিনি জানান, বর্তমানে সবজি কিনে বসে থাকতে হচ্ছে কোন কাস্টমার নেই। অতিরিক্ত গরম আর মিলের কাজ না থাকায় বাজারে অনেক কাস্টমার কমে গেছে। যে কারণে সবজির দাম সস্তা থাকলেও কাস্টমার নেই। সবমিলিয়ে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ার দরুন সবজির বাজারে নেমেছে ধ্বস, সস্তি মিলছেনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)