নাম অজানা মানষিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার ঠিকানা কোথায়; পথই বাড়ি

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : রাস্তা ফাঁকা। তবে মাঝে মাঝে দু’একটি গাড়ি আসা-যাওয়া করছে। খুলনা-যশোর মহাসড়কের আইল্যান্ডের মাঝখানে ল্যাম্পপোষ্টের নীচে জনার্কীর্ণ পোশাক আর চুল এলোমেলো, সাথে একটি বস্তা তার মধ্যে নানা রকম বোতল, বিভিন্ন প্রকার কাগজ, আর শীত নিবাড়নের আগের সেই একটি ছেড়া কম্বল নিয়ে বসে আছে এক বাকরুদ্ধ মানষিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) দিবাগত রাত। ঘড়ির কাটায় রাত প্রায় আড়াইটা। তবে নগরীর রেলিগেট মোড় বেশ জমজমাট। চায়ের দোকানগুলো যেন নিশাচর। বেশ জমকালো কেনাবেচা চলে রাত্রি জুড়ে। মনে হচ্ছে দিন শেষে যেন সন্ধ্যা নেমেছে। সবাই মাঝরাতের নাস্তা সেরে দোকানের সামনে গল্পে মগ্ন। কিন্তু মানষিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা তখনো রাস্তার মাঝখানে নিরবে বসে আছে। তার কোন ভয় লাগছে না পাশ থেকে দ্রুত ছুটে চলা যানবহনের জন্য। হঠাৎ করে এগিয়ে গেলাম তার সম্মুখে। বয়স আনুমানিক (৭০) বছরের উপরে হবে। জিজ্ঞাস করলাম আপনার নাম কি? কোথায় বাড়ি বা কোথায় থাকেন? প্রতি উত্তর নিস্তব্ধতা। রাতে খেয়েছেন? একই উত্তর। বললাম আপনি দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন, তাই চলেন রাস্তা ছেড়ে কোন দোকানের সামনে গিয়ে বসবেন। প্রায় ঘন্টা খানেক তার পাশে বসে থাকার পর ফল মিললো। অবশেষে তিনি মেইন সড়ক ছেড়ে আলামিনের চায়ের দোকানের সামনে এসে বসলো। আর বস্তাটি নিয়ে তার পাশে রাখলাম, হাতে তুলে দিলাম নাস্তাও। হয়তোবা এই পথে পথে তীব্র গরম আর বৃষ্টি অপেক্ষা করে পরে থাকা এই ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার জীবনের কোন করুন ইতিহাস আছে, যা আমাদের অজানা। তবে প্রশ্ন, তার নাড়ি ছেড়া ধনেরা আজ কোথায়? কোথায় বা ভাই-বোন আর আত্বীয় স্বজনেরা? কেউ তাকে খুঁজছেনা, তার সন্ধ্যার মেলেতে স্বজনেরা কি মরিয়া? হয়তোবা তার মানষিক ভারসাম্যহীনতার কারণে কেউ তার খবর নিচ্ছে না? মাকে খোঁজার চেষ্টা ও করেনি কখনো। সামাজিক অবক্ষয় আমাদের এত ঘৃনিতভাবে গ্রাস করেছে, যে আমরা ভূলতে বসেছি বাবা মায়ের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য বোধের। এ অবক্ষয়ের কারণে আজ এতো বৃদ্ধা নিবাস বা বৃদ্ধা আশ্রম।
রেলিগেট মোড়স্থ চায়ের দোকানদার আলামিন জানান, প্রায় ৪ মাস ধরেই এই বৃদ্ধা এই রেলিগেট মোড়ে আছে। নাম ঠিকানা বলতে পারে না। সারাক্ষণ চুপচাপ রোদে বসে থাকে। কেউ কিছু দিলে খায়, নইলে না। তবে মাঝে মাঝে চিকিৎসার করে গালমন্দ করে ওঠে। রেলিগেট মোড়ের একাধিক স্থানীয়রা একই কথা বলেছেন। কোথায় তার সন্তানেরা? যাকে দশ মাস দশদিন গর্ভে লালন করে এই পৃথিবীর আলোকিত মুখ দেখিয়েছিল এই বৃদ্ধ মা। আজ সেই মা কোথায়? জনার্কীন পোশাক আর নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে কুকুরের পাশে রাত্রিযাপন করছে সেই মা। দেশে পালিত হয়ে মা দিবস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিশেষ করে ফেসবুকে মা দিবসে মাকে জড়িয়ে ধরে নানা স্টাটাসে ছবি পোষ্ট দেয়া। প্রশ্ন, ফেসবুকের মা আর রাস্তায় পরে থাকা মায়ের মধ্যে পার্থক্যে কি? জানতে চাই সমাজের বিবেকবান সুধী মহল।

(ঊষার আলো-এমএনএস)