পাইকগাছায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ৩শ’ ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ীর অবদান

সর্বশেষ আপডেটঃ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছায় উত্তরণ অপ্রতিরোধ্য প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়ে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাড়িয়েছেন উপকারভোগী ৩শ’ ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ী। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে উত্তরণ অপ্রতিরোধ্য প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৭৫ নারী উপকারভোগীদের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারী মাসে অত্র উপজেলার ৩শ’ ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সহায়তা পাওয়ার পর উপকারভোগী নারীরা নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। উল্লেখ্য, মহামারী করোনা ও করোনাকালীন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় আম্পানে অন্যান্য খাতের পাশে এলাকার ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হন। এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন বিধবা অনেকেই রয়েছে স্বামী পরিত্যাক্তা, আবার অনেকের উপর রয়েছে পরিবারের অভিভাবকের দায়িত্ব। মুদি, টেইলার্স, স্যানেটারী ও হাঁস-মুরগী পালনসহ নানা আয়বৃদ্ধিমূলক কাজ করে সংসার চালাতো এসব নারীরা। আম্পান ও কোভিড-১৯ এর কারণে স্থবির হয়ে পড়ে এসব নারীদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীক কার্যক্রম। উত্তরণ অপ্রতিরোধ্য প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এলাকার ৩শ’ নারী ব্যবসায়ী। যাদের মধ্যে জাহানারা খাতুন অন্যতম। উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের আরাজী ভবানীপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী জাহানারা’র স্বামী গত ২ বছর আগে মারা যায়। একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। স্বামী না থাকার কারণে নিজের সংসারের সকল দায়িত্ব জাহানারার। পেশায় একজন স্যানেটারী ব্যবসায়ী। বাঁকা বাজারের একটি জায়গা বছরে ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে সেখানে স্যানেটারী সামগ্রী তৈরী করে বিক্রি করতো জাহানারা। আম্পান ও কোভিড-১৯ এর কারণে তার ব্যবসায়ীক এ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ প্রতিবেদককে জাহানারা জানায়, আমার কোন উপকরণ সামগ্রী কেনার সক্ষমতা ছিলনা অনেকটাই। প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়ে আমি সিমেন্ট, বালু, খোয়া ও রড কিনে আবারও স্যানেটারী সামগ্রী তৈরী করা শুরু করলাম। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে আমার ব্যবসায়ীক কার্যক্রম আবারও গতিশীল হয়েছে। ব্যবসার পাশাপাশি সংসারও ভালই চলছে। পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সরল গ্রামের মৃত সুজিত সানার স্ত্রী বাসন্তী সানা জানান, আমার সন্তানেরা কলেজে অনার্স পড়াশুনা করছে। এর মধ্যে এক বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ায় আমি চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ি। বাড়ীর পাশেই একটি টি স্টল দেই। কিন্তু অর্থের অভাবে টি স্টলটি ভালভাবে পরিচালনা করতে পারছিলাম না। প্রকল্পের সহায়তা পেয়ে আমি একটি গ্যাসের চুল্লি, গ্যাস সিলিন্ডার ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী দোকানে তুলি। এরপর থেকে আমার প্রতিদিন অনেক বেশি আয় হচ্ছে। একই এলাকার উত্তম শীলের স্ত্রী অঞ্জনা রানী শীল ও গোপালপুর গ্রামের আক্তারুল এর স্ত্রী স্বপ্না টেইলর্স এর কাজ করে, সোলাদানার আশালতা মুদি ব্যবসা করে ও গোপালপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী মনজুয়ারা টি-স্টল করে নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)