পাইকগাছার নানা সংবাদ

পাইকগাছায় বিপুল পরিমাণ জব্দকৃত চিংড়ি পোনা নদীতে অবমুক্ত

সর্বশেষ আপডেটঃ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক উৎসের চিংড়ি পোনা জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পোনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি এলাকার নদ-নদী থেকে সংগ্রহ করা ড্রাম ভর্তি চিংড়ি পোনা ৩টি নছিমন যোগে সরবরাহ করছিল। এ সময় খবর পেয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিপুল পরিমাণ এ চিংড়ি পোনা জব্দ করেন। পরে জব্দকৃত পোনা শিবসা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী মৎস্য অফিসার এসএম শহীদুল্লাহ, ম্যাকানিক মঞ্জুরুল ইসলাম ও মৎস্য আড়ৎদারী সমিতির সভাপতি স ম আব্দুল জব্বার। পাইকগাছার আরও সংবাদ তুলে ধরা হলো : বিধিনিষেধ উপেক্ষায় জরিমানা : পাইকগাছায় সর্বাত্বক লকডাউনে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দোকান-পাট খোলা রাখায় এবং স্বাস্থ্যবিধিনিষেধ উপেক্ষা করায় কমপক্ষে ১০ ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সেনা অভিযান চলাকালীন সময়ে এসব জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পৌর সদর, সরল বাজার, বোয়ালিয়া মোড়, মানিকতলা বাজার, নতুন বাজার, গদাইপুর বাজার, আগড়ঘাটা বাজার, মাহমুদকাটী, গোলাবাটি ও রহিমপুর বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে সেনা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করায় ১০ ব্যক্তিকে জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ হোসেন। ১৬ সদস্যের সেনা টিমে নেতৃত্ব দেন ওয়ারেন্ট অফিসার রতন আলী। উপস্থিত ছিলেন, পেশকার দীপংকর প্রসাদ মল্লিক।

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা : পাইকগাছায় সর্বাত্বক লকডাউনে কর্মহীন গণপরিবহন শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এলাকার দুই শতাধিক গণপরিবহন শ্রমিককে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আটা ও সুজি সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব মানবিক সহায়তা বিতরণ করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু ও প্রধান শিক্ষক অজিত কুমার সরকার।

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার : পাইকগাছা থানা পুলিশ এ বার ১০ দিনের মাথায় হারিয়ে যাওয়া আরো একটি মোবাইল উদ্ধার করেছে। উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আব্দুস সোবহান (২৮) এর নিজ ব্যবহৃত স্যাম্পনী স্মার্ট ফোন ২ জুলাই হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৩ জুলাই থানায় সাধারণ ডায়েরী হয়। যার নং- ১১৩। পরে ওসি এজাজ শফীর নির্দেশনায় থানা পুলিশের এএসআই নাজমুল ইসলাম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ১০ দিনের মাথায় হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মোবাইল সোমবার আব্দুস সোবহানের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

জনসম্মুখে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর তালিকা : পাইকগাছা থানার ওসি এজাজ শফী এবার ওয়ারেন্টের আসামীদের জন্য ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের নামের তালিকা করে তা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসম্মুখে টানানোর ব্যবস্থা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে পাইকগাছা পৌরসভার দলিল লেখক সমিতির সামনে ১১নং বিট এলাকার ৩৬জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর একটি তালিকা টানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ওসি (অপারেশন) স্বপন রায় ও থানা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। বিশাল সাইজের প্যানা আকারে করা তালিকায় সিআর সাজা ও জিআর মামলা, রিসিভ নম্বর, আসামীর নাম ও ঠিকানা, আদালতের নাম ও মামলা নম্বর সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া রয়েছে। যে কোন আসামী সংক্রান্ত এ ধরণের উদ্যোগ এলাকায় এটিই প্রথম। এটি পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন এবং বিট এলাকায় টানানো হবে বলে ওসি এজাজ শফী জানিয়েছেন। এমন উদ্যোগ প্রসঙ্গে ওসি এজাজ শফী জানান, এর মাধ্যমে কোন মামলায় ওয়ারেন্ট হয়েছে এবং আদালতের নাম সহ এ সংক্রান্ত তথ্য আসামী এবং তার আত্মী-স্বজনরা সহজেই জানতে পারবে এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্রেফতার ছাড়াই আদালতে হাজির হতে পারবে।

পাইকগাছায় ২য় পর্যায়ের টিকা প্রদান শুরু : পাইকগাছায় করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে নতুন করে ২য় পর্যায়ে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ১ মাস ১১ দিনপর মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উপজেলা কমপ্লেক্সে বিরতিহীনভাবে এ টিকা প্রদান করা হয়। প্রথম দিন ৩৬ জন টিকা গ্রহণ করেছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা মুখপাত্র ডাঃ ইফতেখার বিন রাজ্জাক জানান। এবার চীনের সিলোফার্ম কোম্পানির ভেরোসেল ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রদান করা হয় বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এ কর্মকর্তা জানান, আমরা সর্বশেষ ২ জুন প্রথম ধাপের টিকা প্রদান কার্যক্রম শেষ করি। এরপর ৪ হাজার ভ্যাকসিন পেয়েছি। যার মধ্যে প্রথম ডোজ হিসেবে ২ হাজার প্রদান করা হবে এবং বাকী ২ হাজার ডোজ দ্বিতীয় ডোজের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সবাই সতস্ফুর্তভাবে টিকা গ্রহণ করছে বলে ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানিয়েছেন।

(ঊষার আলো-আরএম)