পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিপাকে বটিয়াঘাটার তরমুজ চাষিরা

সর্বশেষ আপডেটঃ

এমএন আলী শিপলু : বটিয়াঘাটা উপজেলার সাত ইউনিয়নে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ৪৫০টি সুপেয় পানির উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জনগণ খাওয়ার পানিসহ কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানীয় ব্যবহার করতে পারছে না। এর ফলে বহু তরমুজ চাষি বিপাকে পড়েছে, দীর্ঘক্ষণ ধরে কল চাপার ফলে অল্প-অল্প পানি উঠলেও অধিকাংশ কলে পানি ওঠে না। এদিকে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য বটিয়াঘাটায় ১৯৯টি ট্যাংকি পদ্ধতি চালু রয়েছে। প্রতি ট্যাংকিতে তিন হাজার লিটার করে পানি ধরার কথা, প্রতি পরিবারে একটি করে ট্যাংকি সরকারিভাবে দেয়া হয়েছে। খাবার পানি হিসেবে বছরের ৭ থেকে ৮ মাস এ পানিতেই চলে। কিন্তু এবার দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় ট্যাংকিতে পানি ধরতে পারছে না। ফলে বহু ট্যাংকি পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। খাল ও বিলের পানি লবণাক্ত হয়ে যাওয়ায় এবং অধিকাংশ জায়গায় শুকিয়ে যাওয়ায় চাষিরা সেচ দিতে পারছে না। ফলে ইতিমধ্যে উপজেলায় ২২শ’ একর জমিতে তরমুজ, চাষ হলেও বহু তরমুজের চারা পানির অভাবে শুকিয়ে যেতে বসেছে। বটিয়াঘাটায় কোন জলাধার নেই, কিছু-কিছু এলাকায় খাল থাকলেও তাও সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে বর্তমানে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বটিয়াঘাটায় গভীর নলকূপ রয়েছে মাত্র তিন হাজার। তার মধ্যে অকেজো হয়ে পড়ে আছে একশ’ পঞ্চাশটি। বাকিগুলোতে ঠিক মত পানি উঠছে না। অগভীর নলকূপ এক হাজার ৩৯টি এর মধ্যে তিনশ’টিতে অল্প-অল্প পানি ওঠে। বাকিগুলো অকেজো।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান বলেন, তার এলাকায় গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের কিছু অংশে নলকূপের পানি ওঠে না। সেখানে ট্যাংকিতে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে জনগণ পান করে। ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর মৌজায় ১৫শ’ ফুট গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি পাওয়া গেছে। তবে অন্যান্য স্থানে যেখানে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ ফুটের মধ্যে পানি পাওয়া যেত, আর এখন সেখানে হাজার ফুটের উপরে পানি মিলছে। ফলে এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। জনগণ ইতিমধ্যে কোথাও-কোথাও বৃষ্টির জন্য মোনাজাত শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, খালের পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু পানি না থাকায় জনগণ সে সুযোগও পূরণ করতে পারছে না।

(ঊষার আলো-এমএনএস)