প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো রিপোর্ট : বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজ ৭৫তম জন্মদিন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম যেমন হতো না- তেমনি শেখ হাসিনার জন্ম না হলে আধুনিক বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে উন্নয়নের রোল মডেল ডিজিটাল বাংলাদেশের খেতাব পেতো না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নব পর্যায়ের বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা। হিমাদ্রী শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কাণ্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার একান্ত বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্নসারথী। বিশ্বরাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রভা, বিশ্ব পরিমণ্ডলে অনগ্রসর জাতি-দেশ-জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র, বিশ্বনন্দিত নেতা। বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ‘নীলকণ্ঠ পাখি’, মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তমানবী। তিমির হননের অভিযাত্রী, মাদার অব হিউম্যানিটি। আত্মশক্তি-সমৃদ্ধ সত্য-সাধক। প্রগতি-উন্নয়ন শান্তি ও সমৃদ্ধির সুনির্মল-মোহনা। এক কথায় বলতে গেলে সমুদ্র সমান অর্জনে সমৃদ্ধ শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেধা-মনন, সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা, প্রাজ্ঞতা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদারমুক্ত গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। এক সময়ের কথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতে হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণমুখী নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মধুমতি নদী বিধৌত গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান। এই নিভৃত পল্লীতেই ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। মাতার নাম বঙ্গবমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। তিনি বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। শৈশব কৈশোর কেটেছে বাইগার নদীর তীরে টুঙ্গীপাড়ায় বাঙালির চিরায়ত গ্রামীণ পরিবেশে, দাদা-দাদির কোলে-পিঠে। পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তখন জেলে বন্দি, রাজরোষ আর জেল-জুলুম ছিল তাঁর নিত্য সহচর। রাজনৈতিক আন্দোলন এবং রাজনীতি নিয়েই শেখ মুজিবুর রহমানের দিন-রাত্রি, যাপিত জীবন। বাঙালির মুক্তি আন্দোলনে ব্যস্ত পিতার দেখা পেতেন কদাচিৎ। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শেখ হাসিনা ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার কনিষ্ঠ ভাই-বোন হলেন- শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেল। শেখ হাসিনা গ্রামবাংলার ধূলোমাটি আর সাধারণ মানুষের সাথেই বেড়ে উঠেছেন। গ্রামের সাথে তাই তাঁর নিবিড় সম্পর্ক।

২৮ সেপ্টেম্বর সময়টা ভারত ভাগের উত্তালে মাতোয়ারা। মূল্যবোধ, রাজনীতি, দর্শন, দেশ ধর্ম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে নতুন জাতি সত্তা তৈরি হচ্ছে। শেখ হাসিনার জন্মের সময়ে তাঁর পিতা শেখ মুজিব খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কলকাতাতে ভারত ভাগের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। দাঙ্গা প্রতিরোধ, রাজনীতি, আন্দোলন আর লেখাপড়া নিয়ে তিনি তখন মহাব্যস্ত। তাই জন্মের পরেই পিতার স্নেহ পাননি শেখ হাসিনা। দাদা এবং দাদির প্রথম স্নেহ মমতা নিয়ে শেখ হাসিনার জন্ম। প্রিয় নাতনির নাম রাখেন দাদা- ‘হাসিনা’।

মায়ের বুকের উম আর দাদা দাদির সাহচর্যে বেড়ে উঠতে থাকেন এখনকার সময়ের উন্নয়ন নেত্রী, মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা। আচমকা একদিন ‘হাসুমনি’র কপালে কোমল চুমু এঁকে দিয়ে সবাইকে অবাক করে দেন শেখ মুজিব। কাউকে না জানিয়ে খবর পেয়ে মেয়েকে দেখতে সব কাজ ফেলে ছুটে আসেন কলকাতা থেকে। পিতার সেই প্রথম চুমুতে ছিল দুর্নিবার শক্তি। জাতির জনকের সাত রাজার ধন ফুটফুটে ‘হাসুমনি’ বহু ইতিহাসের উত্থান পতন, সংগ্রাম ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে হয়ে ওঠেন বিশ্ব বাঙালির প্রিয় নেত্রী উন্নয়ন কন্যা এবং বাঙালির আশা ভরসার প্রতিচ্ছবি।

প্রকৃতির অপার মমতার মাঝেই তার বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষা জীবনের শুরু হয়। অবারিত মাঠ আর ছায়া সুনীবিড় গ্রামে ছোট ছোট পা ফেলে মহা জীবনের পথে পা বাড়ান শেখ হাসিনা। একসময়ে গ্রামের জীবন ছেড়ে আরও বিস্তৃত জীবনের শিক্ষা লাভের জন্যে ঢাকায় এসে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তোলেন।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গীপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তাঁর পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসনে। পুরানো ঢাকার মোগলটুলির রজনী বোস লেনে বসবাস শুরু করেন। পরে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচিত হলে আবাস স্থানান্তরিত হয় ৩ নম্বর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে। ১৯৫৬ সালে শেখ হাসিনা ভর্তি হন টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে। ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে বসবাস শরু করেন ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর। এ সময় শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ঢাকার বকশী বাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভানেত্রী (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন। একই বছর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেন। মা নেওটা শেখ হাসিনা গভীর জীবনবোধ এবং উন্নত চরিত্রের আদর্শ মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা লাভ করেন মায়ের কাছ থেকে। আর উচ্চশিক্ষার জন্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শেখ হাসিনা ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা যার মা, বাংলা যার প্রাণ-তিনি বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করবেন এটাই তো স্বাভাবিক? বাঙালি এবং বাংলাদেশের প্রতি তার মমতা আরও সু-গভীর হয় বাংলা বিভাগে পড়াশোনার কারণে।

তিনি ঢাকায় স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করেছেন তাই তার বন্ধুর সংখ্যাও ছিল অনেক। সবার মাঝে তিনি ছিলেন আনন্দের উপলক্ষ্য। সাথে মার্জিত, পরিশীলিত এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কারণে খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি সকলের প্রিয় হয়ে ওঠেন। সবাই তার সাথে আড্ডা দেয়ার জন্যে উদগ্রিব থাকতো। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভিন্ন মতের এবং রাজনীতির ছেলেমেয়েরাও শেখ হাসিনাকে অনেক পছন্দ করতো এবং ভালবাসতো তার প্রজ্ঞা আর মমতাময়ী হৃদয়ের কারণে। ছোট, বড়, ছাত্র, শিক্ষক- সবার সাথে ছিল তার সখ্যতা।

ছোটবেলা থেকে শেখ হাসিনা গভীর নেশায় আসক্ত ছিলেন। সেই নেশা বই পড়ার নেশা। রাজনীতির প্রজ্ঞা আর মানুষের জন্যে দেশের জন্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করার মানসিকতা তৈরী হয় প্রচুর বই পড়ার মধ্য দিয়ে। মনে প্রাণে বাঙালি, ভদ্র মার্জিত হয়ে ওঠার পেছনে পারিবারিক শিক্ষার সাথে বই পড়ার নেশা আর বাবা মায়ের মূল্যবোধ এই সব গুণ নিয়ে ধীরে ধীরে আদর্শ মানুষ হয়ে ওঠেন শেখ হাসিনা। আর এখন এই বয়সে এসে আজও চির তরুণ। তাঁর তরুণ মনের সাথে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা, পরমত সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, ধৈর্য্য আর দৃঢ়তার সাথে- সময় তাকে খাঁটি সোনায় পরিণত করেছে।

বর্তমান আধুনিক বিশ্ব বাঙালির কাছে শেখ হাসিনা অমূল্য সম্পদ। পিতা যেমন তর্জনির গর্জনে ৭ কোটি বাঙালিকে জাগিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন তেমনি তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শনে বিশ্ব বাঙালি পৌচ্ছে যাচ্ছে উন্নত বিশ্বের কাতারে। সাবমেরিন থেকে মাটি, আর মাটি থেকে স্যাটেলাইট সব জায়গায় বাংলাদেশের এখন অপ্রতিরোধ্য বিচরণ। অবাক বিস্ময়ে বিশ্ব দেখছে এখন শেখ হাসিনার উন্নয়ন ম্যাজিক।

শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় তিনি যখন বিরোধীদলের নেত্রী ছিলেন তখনও বিশ্ব দেখেছে তার অসীম তেজ এবং ক্ষিপ্রতা, আপোষহীনতা আর সংগ্রাম আন্দোলনের দূরদর্শীতা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে বারবার দায়িত্ব পালনকালে তিনি যথেষ্ট সচেতন। ভালো মন্দ যে কোন ঘটনা ঘটুক শেখ হাসিনা জানতে পারলে যে কোন মূল্যে তার সুরাহা নিজেই বের করে সমাধান না হওয়া পর্যন্তু মনিটরিং করেন।

তার ধ্যান জ্ঞান হলো মানুষ আর দেশ। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে তিনি বিস্ময়ে পরিণত হয়েছেন। আর বিডিআর বিদ্রোহ দমনের সময় তার অপরিসীম সাহস ও প্রজ্ঞা দেখেছে বিশ্ববাসী। রাষ্ট্র নায়কোচিত বক্তব্য, জ্ঞান, আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে বারবার। বাঙালি সাধারণ আটপৌরে নারী না হয়ে তিনি সারা বিশ্বের কাছে স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়েছেন, আলো ছড়িয়েছেন সবার মাঝে।

দেশের সংকটে সবার কাছে তিনি আশা আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক। তাঁর বিকল্প শুধুই তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসনকালে তিনি অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দেন। এই সময়ে অর্থনীতির সবগুলো সূচকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দারিদ্রতা দূরীকরণ, কর্ম সংস্থান তৈরী, কৃষি বিপ্লবের সাথে শিল্পায়নে অসামান্য সফলতা আসে। দেশ থেকে মঙ্গা দূর করার অনন্য নজির স্থাপিত হয়। নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসুচি এবং সন্তানের অভিভাবক হিসেবে সর্বক্ষেত্রে পিতার পাশাপাশি মায়ের নামের স্বীকৃতিও ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকদের ঋণ প্রদান, কৃষি সামগ্রীর মূল্যহ্রাস এবং সহজ প্রাপ্যতাও ছিল বিরাট অবদান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম সরকার মানুষের কাছে আস্থা এনে দিয়েছিল।

শেখ হাসিনার প্রতি তাকিয়ে আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়া ও দরিদ্র অনুন্নত দেশের মানুষও। বর্তমান বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, দেশে দেশে মূল্যবৃদ্ধি ও বেকার সমস্যা জটিল হচ্ছে তখন তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছেন। মানুষের জীবিকা নির্বাহে নূন্যতম উপায় সৃষ্টি করেছেন। শেখ হাসিনার কৃতিত্ব এখানেই। তার সাফল্যের চাবিকাঠি হচ্ছে তিনি গভীর আন্তরিক বলেই যে কোনও ভালো উদ্যোগকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতে জানেন। বিশেষ করে কৃষি খাতের উন্নয়নে তাঁর কোন বিকল্প আজও আমরা দেখতে পাই না।

জাতীয় অর্থনীতি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। দারিদ্রের হার অনেক কমে বর্তমানে ৪০.২৪ ভাগে নেমে এসেছে। অনেক রকম সমস্যা আছে দেশে, সমস্যার মাত্রাও নানাবিধ তারপরও দেশের মানুষ ন্যূনতম শান্তি ও স্বস্তিতে জীবনযাপন করছে। এর প্রধান কারণ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি। আমাদের স্বীকার করতেই হবে শেখ হাসিনার শাসনামলে তার দৃষ্টি তৃণমূল থেকেই ওপরে উঠেছে। তিনি তরুনদের কাছে প্রযুক্তি ব্যবহারের অবাধ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। আর বিশ্ব ব্যাংকে উপেক্ষা করে নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ, সবশেষ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন করে এখনকার তরুণ সমাজের কাছে আইকনে পরিণত হয়েছেন। বিদ্যুত উৎপাদনে অনন্য রেকর্ড তাঁর। রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, মেট্টোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, সমুদ্র সীমা জয়, ঢাকা চট্টগ্রাম ফোর লেন এবং ফ্লাইওভার এই সব নানামুখি উন্নয়ন প্রকল্প বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছেন যেখানে শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান ছাড়াও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের বিরাট সম্ভাবনা থাকবে।

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা শেখ হাসিনার কতটুকু তা জনগণ এখন খুব সহজেই বুঝতে পেরেছে। আর তাঁর মত জনদরদী ও মমতাময়ী নেত্রী ভবিষ্যতে আসবে কি না সেটা ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মই মূল্যায়ণ করবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে শেখ হাসিনা তার সততা, আত্মত্যাগ, দূরদর্শীতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন- এটাই হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। তাই মমতাময়ী মা জননেত্রী শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিনে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে জানাই অফুরন্ত ভালবাসা।

একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর অবদান আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইতোমধ্যে তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়ন এবং দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে সৌভ্রাতৃত্ব ও স¤প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পদক, পুরস্কার আর স্বীকৃতিতে।

নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ় মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাঁকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং বাঙালি জাতির সকল আশা-ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ’৭৫ পরবর্তী বাঙালি জাতির যা কিছু মহৎ অর্জন তা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ গোটা বাঙালি জাতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন।

(ঊষার আলো-এমএনএস)