UsharAlo logo
শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাঠের ও আস্থাভাজনদের বেছে নিল হাইকমান্ড

usharalodesk
জুন ১৬, ২০২৪ ১:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো রিপোর্ট : সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণে বিএনপির ঢাকাসহ চার মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর এবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে বড় রদবদল করা হয়েছে।

৩৯ পদে নেতাদের কাউকে কাউকে নতুন যুক্ত করা হয়েছে, আবার কারও কারও পদ পরিবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মাঠের ও আস্থাভাজনদের বেছে নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

শনিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেতাদের নতুন পদে অন্তর্ভুক্তির কথা জানানো হয়। তবে এই রদবদলে কয়েকজনকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির একটি অংশ।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। আট বছরেরও বেশি সময় ধরে কাউন্সিল না হওয়ায় এই কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তিন বছর পরপর কাউন্সিল করার বিধান দলটির গঠনতন্ত্রে রয়েছে। এখন কাউন্সিল না করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কমিটিতে রদবদল আনা হলো। তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সরকার ও প্রশাসনের নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কাউন্সিল করা যায়নি।

নতুন রদবদলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিশেষ দায়িত্বে থাকা সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনকে করা হয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলে ১৫ জনকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা এতদিন এই কমিটিতেই বিভিন্ন পদে ছিলেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন, পাঁচ যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হারুন অর রশিদ ও আসলাম চৌধুরী, দুই সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক বেবী নাজনীন ও সহতথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন চৌধুরী পাহিন।

এছাড়াও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ পাওয়া নেতারা হলেন-মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দিন, জাহান পান্না (রাজশাহী), নাজমুন নাহার বেবী (চাঁদপুর), মো. মাইনুল ইসলাম (টাঙ্গাইল), আজম খান (দক্ষিণ আফ্রিকা) ও বেলায়েত হোসেন মৃধা (নরসিংদী)। পদোন্নতি দিয়ে তিনজনকে যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে। তারা হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এখনো যুগ্ম সম্পাদকের দুটি পদ ফাঁকা রয়েছে।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল (ঢাকা বিভাগ), সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক (রাজশাহী বিভাগ) ও শরিফুল আলম (ময়মনসিংহ বিভাগ)। এছাড়া সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ জিকে গউছকেও সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) করা হয়েছে। যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে দেওয়া হয়েছে প্রচার সম্পাদক, বিএনপির সহপ্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে গণশিক্ষা সম্পাদক, সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমকে গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক, সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ), সহআন্তর্জাতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ), নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলামকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ), নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিনকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও আবু ওয়াহাব আকন্দকে দেওয়া হয়েছে সহসাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) পদ। এছাড়া মিফতাহ সিদ্দিকী সহসাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ), নাহিদ খান সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, ডা. মো. নজরুল ইসলাম সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, এস এম সাইফ আলীকে সহতথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে।

কয়েকজনের দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে সহসাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে জালাল উদ্দিন মজুমদার ও সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও সায়েদুল হক সাঈদকে, সহকৃষিবিষয়ক সম্পাদক থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েছেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল ফারুক, সহতথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েছেন এসএম গালিব।

এছাড়া নির্বাহী কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদকে। নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে মহিউদ্দিন আহমেদ ঝিন্টু (সুইডেন), গাজী মনির (ডেনমার্ক) ও রাশেদ ইকবাল খানকে (ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি)।

পদোন্নতি পাওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্যাগী নেতাকর্মীদের যে মূল্যায়ন করেছেন, যা দলের জন্য অত্যন্ত ভালো দিক। আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন তা কর্মের মাধ্যমে যথাযথভাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করব। আগামী দিনে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে আন্দোলন তা চূড়ান্ত লক্ষ্যে নেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার তা কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করব।’

পদোন্নতি পাওয়া আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘দল এই মুহূর্তে যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে, তার জন্য চেয়ারপারসন প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। দল আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করে প্রমাণ করব আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখা যথাযথ হয়েছে। বিগত দিনেও এই দলের জন্য অনেক ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেছি। ভবিষ্যতে আরও বেশি করব। কারণ এই পদ আমাকে আরও উৎসাহিত করেছে ও করবে।’

রদবদলে আছে ক্ষোভও : কেন্দ্রীয় কমিটিতে রদবদলে নেতাকর্মীদের একটির অংশ ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। তাদের মতে, যুগ্ম মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হারুন অর রশিদের মতো সিনিয়র ও ত্যাগী রাজনীতিবিদদের ছোট করা হয়েছে। কারণ সবাই জানে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে কোনো কাজ থাকে না। অথচ আলাল রাজপথে সব সময় সক্রিয় ছিলেন, তার বিরুদ্ধে দুইশ’র উপরে মামলা রয়েছে এবং সাজাও দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তিন মাসেরও বেশি সময় কারাগারে থেকে গত জানুয়ারিতে মুক্তি পান। সরোয়ারও জেল খেটেছেন, তার বিরুদ্ধেও অনেক মামলা রয়েছে। সব কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন। হারুন অর রশিদ দলের সিদ্ধান্ত মেনে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে সংসদ-সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। আন্দোলনের ওই সময় এই সিদ্ধান্ত সরকারকে চাপে রাখতে কিছুটা হলেও কাজে দিয়েছিল। আবার রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। তিনি দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন, মাঠেও সক্রিয় ছিলেন। এসব নেতাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দলের প্রতি অনেক ত্যাগ রয়েছে। অথচ আসাদুজ্জামান রিপনকে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু রাজপথে তার ভূমিকা কি-তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এছাড়া রদবদলে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে জ্যেষ্ঠতা রীতি মেনে করা হয়নি। এ নিয়ে দলটির একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নতুন পদ পাওয়া উপদেষ্টাদের মধ্যে কয়েকজন বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই সঠিক। তারা চান দল ভালো থাকুক।

২৯ সদস্যের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটি : বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের এ কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিএনপির চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটি’। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা কমিটি নামেও আরেকটি কমিটি করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা হলেন-চেয়ার অব দ্য কমিটি তারেক রহমান (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিএনপি), ড. আবদুল মঈন খান (সদস্য, জাতীয় স্থায়ী কমিটি), নজরুল ইসলাম খান (সদস্য, জাতীয় স্থায়ী কমিটি), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (সদস্য, জাতীয় স্থায়ী কমিটি), আলতাফ হোসেন চৌধুরী (ভাইস চেয়ারম্যান), আবদুল আউয়াল মিন্টু (ভাইস চেয়ারম্যান), নিতাই রায় চৌধুরী (ভাইস চেয়ারম্যান), ইসমাইল জবিউল্লাহ (চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য), হুমায়ুন কবির (আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক), সিরাজুল ইসলাম (সাবেক রাষ্ট্রদূত) ও তাজভিরুল ইসলাম (সভাপতি, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি)। বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটিতে রয়েছেন-শামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম, নাসির উদ্দিন অসীম, নওশাদ জমির, কায়সার কামাল, আসাদুজ্জামান, আফরোজা খান, ফাহিমা নাসরিন, জিবা খান, নিপুণ রায় চৌধুরী, শেখ রবিউল আলম রবি, মীর হেলাল উদ্দিন, তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমীন, ইসরাফিল খসরু, আবু সালেহ মো. সায়েম (ইউকে) ও ইকবাল হোসেন (বেলজিয়াম)।

ঊষার আলো-এসএ