মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মানবিক কর্মকর্তা গোলদার শাহবাজ

সর্বশেষ আপডেটঃ

মোঃএরশাদ হোসেন রনি, মোংলা : একজন সাদা মনের মানুষ খোলামনে সবাইকে ভালোবাসে, সবার ভালোবাসায় ধন্য হন। অন্যের আনন্দে নিজে আনন্দিত হন, অন্যের ব্যথায় হন ব্যথিত। তাঁর মনের উদারতার পাত্র থাকে কানায় কানায় পূর্ণ। শুধু নিজের চিন্তা না করে এরা সকল মানুষের সুখের চিন্তা করেন। সকলের কল্যাণে তারা নিজেকে বিলিয়ে দেন। সব ভালো কাজ করেই আনন্দ পান। পাপকে ভয় পান।  উদারতায় মানুষের মনে শান্তি আসে। পক্ষান্তরে সংকীর্ণতা মনের কষ্ট বাড়ায়। একজন সাদা মনের মানুষ নিজেকে সকল সংকীর্ণতার উর্ধ্বে রাখেন। সাদা মন সাহসের আঁধার। তাই একজন সাদা মনের মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে ছাড়া আর কাউকে ভয় পান না। অনায়াসে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে পারেন। একজন সাদা মনের মানুষের কাছে সকল কিছুই পরিষ্কার। তাই এদের সারাক্ষণ টেনশনে থাকতে হয় না। তুচ্ছ কিছু নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করেন না, অন্যের শান্তি ভঙ্গ করেন না। তারা সকলকে সম্মান করেই নিজেরা হন সম্মানিত। সাদা মনের মানুষগুলো আছেন বলেই এখনো মানব সভ্যতা টিকে আছে।

যে মানুষটি তার কর্মময় জীবনের দীর্ঘ ৩৬ বছরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্র বন্দরের বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বন্দরের কর্মকর্তা- কর্মচারী, বন্দর ব্যবহারকারী, আমদানি- রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি গোলদার শাহবাজ। জুনিয়র অডিট হিসেবে চাকরী জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে তিনি একই সাথে ৪টি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ব্যবহার, আচার আচরণ সবাইকে যেমন আকৃষ্ট করেছে তেমনি পেশাগত দায়িত্ব পালনেও তিনি ছিলেন সততার প্রতীক। বিন্দুমাত্র অহংকার ছিল না তার। মোংলা বন্দরের উন্নয়নে একজন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অনেক ভূমিকা রেখেছেন। মোংলা বন্দরকে প্রথম শ্রেণীর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে রুপান্তর করতে অন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আজকের মোংলা বন্দরকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতে তার অবদানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তার অমায়িক ব্যবহার, সততা,নীতি আর আচার আচরণ বন্দরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে হয়ে থাকবে।

গোলদার শাহবাজ ১৯৮৫ সালের ৮ জুন মোংলা বন্দরে জুনিয়র অডিট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯০ সালের ২৮ জুন তিনি অডিটর হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি মেধা,নীতি, আদর্শ আর দক্ষতা দিয়ে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৫ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি সহকারি নিরীক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ৭ অক্টোবর পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র একাউন্টস অফিসার পদে দায়িত্ব পালন করেন।
একজন সৎ বিচক্ষণ কর্মকর্তা হিসবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে বন্দরের প্রশাসনে। ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর থেকে প্রধান নিরীক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পান তিনি। এই দপ্তরে অনেক স্বচ্ছতা ও সততার দায়িত্ব পালনের কারনে আরো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের চলতি দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি সচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ), প্রশাসন শাখার ম্যানেজার এডমিন ও চিফ অডিটরের দায়িত্বও পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১ পুত্র ও ২ কন্যা  সন্তানের গর্বিত পিতা। মোংলা বন্দরে বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে  অবসরে যাবেন গোলদার শাহবাজ।