লকডাউনেও জনসমাগম, মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি

সর্বশেষ আপডেটঃ
দৌলতপুরে সর্বাত্বক কঠোর লকডাউনেও জনসমাগম, মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি...প্রতিনিধি।

ঊষার আলো প্রতিবেদক : সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ১ জুলাই পেছনের সব রেকর্ড ভেঙ্গে ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগে ৯ জেলায় করোনায় সর্বোচ্চ ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে এটিই বিভাগের একদিনের সর্বোচ্চ মুত্যু। মৃত্যুতে খুলনা জেলায় শীর্ষ অবস্থানে। এর আগে ২৯ জুন দশ জেলায় সর্বোচ্চ ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ১ জুলাই সেই রেকর্ড ভেঙ্গে মৃত্যুতে রেকর্ড গড়লো। এ নিয়ে বিভাগে মৃত্যু ছাড়ালো ১ হাজার ১০৯ জন। ১ জুলাই ২৪ ঘন্টায় ১০ জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৪৫ জন। এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৫৭ হাজার ৫২০ জন। অপরদিকে খুলনা মহানগরীতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের কঠোরতা আর জনগণের অসচেতনতা ও লুকোচুরির মধ্যে পার হচ্ছে লকডাউন। এই ধারাবাহিকতায় নগরীর দৌলতপুরে সরকার ঘোষিত সর্বাত্বক লকডাউন বাস্তবায়নে দৌলতপুর থানাধীন এলাকার নতুনরাস্তা, ট্রাফিক মোড়, মানিকতলা মাইলপোষ্ট, কবির বটতলা, নগরঘাট, রেলিগেট, কৃষি কলেজ, চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে। দৌলতপুর ট্রাফিক মোড়ের চেকপোষ্টে পুলিশের টহল ছিল নজরকাড়া, পাশাপাশি খুলনা-যশোর মহাসড়কে সংশিষ্ট আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত আছে। বিনা প্রয়োজনে বাইরে আসা মোটর বাইক, মাহেন্দ্র, সিএনজি, ইজিবাইক, ইজ্ঞিন চালিত যানবহন বন্ধ করে দেয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও কোন যানবহন যেতে দেয়া হয়েছে তবে উপযুক্ত কারনদর্শীয়ে । পুলিশ, নগর গোয়ান্দা পুলিশের সদস্যরাসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও দৌলতপুরে সর্বাত্বক লকডাউনেও মহাসড়ক, দৌলতপুর বাজার, অলি-গলিতে নেই জনসমাগমের কমতি। দৌলতপুরস্থ পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে সন্ধ্যার পর অযথা বিনাপ্রয়োজনে জনসমাগম যা নিষেধাজ্ঞার অবমাননা। সরেজমিনে, ২ জুন শুক্রবার দৌলতপুর বাজার সংলঘ্ন সম্মুখ, মাছ, কাঁচা সবজির বাজার, মাংশের বাজার, মুুদি দোকান গুলোতে নজরকাড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। যেখানে নুন্যতম সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। প্রতিদিনেই মতোই চলছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন। এমনই চিত্র দেখে মনে হয়নি সরকার করোনার সংক্রমন নিয়ন্ত্রনে জন্য ৭ দিনের কঠোর লকডাউন দিয়েছে। খুলনার করোনা সংক্রমনের ভয়াবহ পরিস্থিতির আতংক যেন কোন ভাবেই ভীতিতে ফেলছেনা নগরীর দৌলতপুর জনজীবনে। একেইতো স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাদে চলাচল, অন্যদিকে অনেকের মুখে মাস্কই নেই। যদিও মাস্ক দেখা গেছে তবে সেটা মুখে নয়, পকেটে। সকলের অবাদে মাস্ক ছাড়াই ছুটে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা না দেখে মনে হচ্ছে খুলনায় যেন করোনার স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে ভূলে গেলে চলবেনা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে। দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম মিন্টু বলেন, স্বাস্থ্যবিধির না মানার প্রতিনিয়ত শনাক্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে । আমরা সচেতন হলে বার বার সরকারকে আর লকডাউন বা কঠোর বিধি নিষেধ দিতে হতো না, আর প্রশাসনকেও কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে না। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড তাহমিদুল ইসলাম দৌলতপুর সরেজমিনে এসে জানান, সম্প্রতি সময়ে করোনা সংক্রমনে বেড়ে যাওয়ার দরুন স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন হচ্ছে। সংক্রামক রোগ ( প্রতিরোধ,নিয়ন্ত্রন ও নির্মল ) আইন , ২০১৮’ এবং দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করার অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে।
(ঊষার আলো-এমএনএস)