সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রম খাতা কলমে

লকডাউনের প্রভাব ও অসচ্ছলতায় বন্ধ নেই শিশু শ্রম, বাড়ছে অবক্ষয়

সর্বশেষ আপডেটঃ

ঊষার আলো প্রতিবেদক : অসচ্ছল পরিবারের বাবা, মা এমনকি অন্যান্য সদস্যরাও কাজ করে পেটের তাগিদে সামান্য দু’টো মোটা ভাতের জোগানের জন্য। যাদের ভাগ্যে সামান্য একটু আলু সিদ্ধ আর এটো পানির মতো ডাল জুটলে যেন অভিজাত কোন রেস্তেরার আহার মিলছে এমনই প্রত্যাশা সমাজের সবচেয়ে তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষগুলোর। যারা করোনার প্রভাবে দরিদ্রতার পিষ্টে পড়ে কর্মহীন হওয়ায় কোমলমতি সন্তানটিও নামিয়ে দিচ্ছে কর্মে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব আর দীর্ঘ লকডাউনের কারণে ক্রশমই নগরীর দৌলতপুরে বেড়ে চলেছে শিশু শ্রম। অবশ্য শ্রম অধিদপ্তরের তথ্যনুসারে, ১৩ বছরের নীচে কোন শিশু কাজ লাগালে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়।

অপরদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য এই করোনাকালীন মুহূর্তে (সিটিএসবি) প্রকল্পের আওতায় এই সকল শিশুদের ঘরে রেখে আর্থিক সহায়তাসহ ভরণপোষনের ব্যবস্থার বিষয়টি অনেকটা খাতা কলমে সীমাবদ্ধ।
করোনার ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পরিবারের কিছুটা অভাব মেটাতে পথে নামতে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা। যা আইন শিশু শ্রম আইন বিরোধী। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র উঠে এসেছে। কেউ রিক্সা নিয়ে, কেউ চায়ের কেটলি হাতে কেউ কেউ গ্যারেজে আবার অনেক শিশু দৈনিক শ্রমিকের কাজও করছে।

সরেজমিনে, সোমবার বেলা ১১টায় দৌলতপুর মুহসীন মোড়স্থ একটি মোটর সাইকেল গ্যারেজে দেখা মেলা দুটি শিশুর সাথে। যারা দৈনিক ৫০ টাকা হাজিরায় একটানা কাজ করে চলেছে।

মো. সালমান বয়স (১৩) বছর। স্থায়ী পিতৃনিবাস ডুমুরিয়া থানাধীন বন্নি গ্রামে। বর্তমান বসবাস পাবলা কারিকর পাড়া। বাবা সামান্য রাজমিস্ত্রি। লকডাউনে বাজার কাজ নাই। তাছাড়া পারিবারিক অস্থলতার কারনে ৩য় শ্রেণির পর লেখাপড়া হয়নি, তাই পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে বই, কলম-খাতা ছেড়ে হাতে তুলে নিতে হয়েছে প্লাস আর হাতুড়ি। একই কারণ সিফাতের। বাবা মিজানুর দৌলতপুর কাচা সবজির বাজারে বোঝা টানে, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তাকে এই জায়গায়, একই মুজুরিতে কাজ করতে হচ্ছে। তার পরিবারের বর্তমান বসবাস মুহসীন মোড়ের তালুকদার ভিলায়। শিশু মেহেদী হাসান শান্ত। বয়সটা চলে ১১ বছর। নিজ বাড়ি না থাকলেও বর্তমান বসবাস খালিশপুর থানাধীন আলমনগর পোড়া মসজিদের পাশে ১নং কম্পের জনার্কীন কুঠিরে। ছোট্ট একটি মাত্র ভাই জয় আর মা চম্পা বেগমকে নিয়ে তার বসবাস। লেখাপড়া করছে খালিশপুরে বঙ্গবন্ধু আনন্দ স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে। করোনার ভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায়, মায়ের অভাবী সংসারের কিছুটা দুঃখ লাঘব করার জন্য তাই আজ সে স্কুল ব্যাগ ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে চায়ের কটলী। এ রকম হাজারো শিশু আজ লকডাউনের প্রকোপে পড়ে আর পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষনের জন্য জীবিকার তাগিদে আজ রাস্তায় নেমেছে। যারা আজ করোনার প্রভাব আর দীর্ঘ লকডাউনের কারণে বইখাতা ছেড়ে বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে, ফলে বেড়েছে শিশু শ্রম, বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। করোনা কালীন এ দূর্যোগময় মুহুর্তে অসংখ্যক ছিন্নমূল পরিবারের শিশুরা মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষাসহ স্বাস্থ্য সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
খুলনার বিভাগীয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আইনাল হক জানান, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরাদের জন্য এই করোনাকালীন দুর্যোগময় মুহূর্তে (সিটিএসবি) প্রকল্পের আওয়াই এই সকল শিশুদের ঘরে রেখে আর্থিক সহয়তাসহ ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হবে।