লকডাউন : চিরচেনা চিত্র নেই খুলনার ইফতারী বাজারে

সর্বশেষ আপডেটঃ
নগরীতে ইফাতারীর পরশা - ঊষার আলো

বিশেষ প্রতিনিধি : রমজান এলেই বিকালে মোড়ে মোড়ে বাহারী ইফতারির পসরা বসে। হোটেল রেস্তোরার পাশে মৌসুমি বিক্রেতারা ঝুকতেন ইফতার সামগ্রী বিক্রির ব্যবসায়। নগরীর কিছু সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে রীতিমতো সামিয়ানা টাঙিয়ে চলতো ইফতার সামগ্রী বিক্রি। আছরের নামাজের পর থেকে সেখানে মানুষের ভিড় লেগেই থাকতো। খুলনা মহানগরীতে পরিচিত সেই দৃশ্য এবার নেই।
করোনা ভাইরাসের কারণে পবিত্র রমজান মাসে খুলনা নগরীর চিরচেনা রূপ পাল্টে গেছে। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনের কারণে সড়কে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রিত। আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে সড়কে কোনো ইফতার সামগ্রীর দোকান বসেনি। অলিগলিতে যারা দোকান দিয়েছেন, ক্রেতা না থাকায় তাদের পণ্যও অবিক্রিত থেকে গেছে।
রমজানের গেল তিনদিন নগরীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের বিকালে ফাঁকা সড়কে অলসভাবে হেটে বেড়াচ্ছেন মানুষ। লকডাউন প্রধান সড়কে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও পাড়া-মহল্লার সড়কে লোকে ঠাসা। ইফতার সামগ্রী কিনতে ভিড় লেগে থাকা মোড়গুলো অনেকটা ফাঁকা। সেখানে ভ্যানে করে তরমুজ, বাঙ্গি ও কলা বিক্রি করছেন মৌসুমি বিক্রেতারা। কাংখিত ইফতার না পেয়ে অনেকে ফল কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।
নগরীর গোবরচাকা এলাকার আলিশান মোড়ে প্রতিবছর ইফতার সামগ্রীর ৭/৮টি দোকান বসতো। এবার সেখানে শুধু একটি হোটেলেই ইফতার বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমী ইফতার বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, লকডাউনে কী হবে বুঝতে পারছি না, এজন্য দোকান চালু করিনি। অবস্থা স্বাভাবিক হলে ইফতার বিক্রি শুরু করবো।
নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল সড়কের সরকারি পাইওনিয়ার মহিলা কলেজের সামনে প্রতিবছর ইফতার মেলা বসে। বিকালের পর থেকে সেখানে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। খুলনায় সুখ্যাতি পাওয়া ‘নানা হালিম’ বিক্রি হয় সেখানে। এবার অন্যান্য দোকান না থাকলেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে হালিম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন নানা হালিমের উদ্যোক্তা হযরত আলী। তবে সড়কে লোক কম থাকায় বিক্রি অনেক কম।
এদিকে বাইরের ইফতার বন্ধ থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে উচ্চবিত্তদের মাঝে। বাইরের ভাজা খাবার বিক্রি না হওয়ায় খুশি গৃহিনীরাও। তবে কষ্ট বেড়েছে বিভিন্ন মেস ও ভাড়া বাসায় থাকা ব্যাচেলরদের। মসজিদগুলোতে ইফতার আয়োজন বন্ধ থাকায় কষ্ট বেড়েছে রিকশাচালক ও নি¤œবিত্ত মানুষের।
নগরীর অভিজাত হোটেলগুলোতে এবারও ইফতারি মেলা বসেছে। উচ্চবিত্তরাই এসব ইফতারির মূল ক্রেতা। কিন্তু ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের অনুমতি না থাকায় এসব ইফতার বাজারও ফাঁকা দেখা গেছে। সার্বিকভাবে রমজানে চিরচেনা সেই দৃশ্য এবার আর দেখা যাচ্ছে না।