UsharAlo logo
বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়পত্রে করের বোঝা

usharalodesk
আগস্ট ১৭, ২০২৩ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো রিপোর্ট : কর্মজীবন শেষে কিংবা চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে মধ্যবিত্তের দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব করেছিল সঞ্চয়পত্র। সারা জীবনের সঞ্চয় কিংবা চাকরি শেষে এককালীন যে অর্থ তারা পেতেন, তা নির্বিঘ্নে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতেন। এ থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটাতেন তারা। সরকারও সাধারণ মানুষের এই নিরাপদ বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালাত। এতে ব্যাংক থেকে বাজেট ঘাটতি পূরণে অর্থায়নের জন্য বাড়তি ঋণ নিতে হতো না। কিন্তু সম্প্রতি যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে সঞ্চয়পত্রের এ বিনিয়োগ উলটো পথে হাঁটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন আয়কর আইনে পুরোনো আইনের একটি ধারা {৮২ (সি) ২(ডি)} বিলুপ্ত করার কারণে কর নির্ধারণের হিসাব পালটে গেছে। এতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফাকে করদাতার আয় হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। পুরোনো আইনে মুনাফার অর্থ করদাতার আয়ের সঙ্গে যুক্ত হতো না, শুধু মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হতো, যা করদাতার চূড়ান্ত করদায় হিসাবে বিবেচিত হতো। কিন্তু নতুন আইনে একই হারে উৎসে কর কাটলেও অন্য (চাকরি, ব্যবসা, বাড়ি ভাড়া প্রভৃতি) আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা যোগ করে করদাতার চূড়ান্ত করদায় নির্ধারণ করা হবে। এ কারণে ক্ষেত্রবিশেষে চলতি করবর্ষ থেকেই করদাতাদের বাড়তি কর দিতে হবে।

এমন সিদ্ধান্তে স্বভাবতই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগ্রহে ভাটা পড়তে পারে। যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতেন, তারা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অন্যত্র বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজবেন। সেক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র থেকে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না এলে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর সরকার বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না। এমনিতেই চলমান অস্থির অর্থনীতি আর বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের চেয়ে ভাঙানোর প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে, কর আইনের সাম্প্রতিক পরিবর্তন এ প্রবণতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। শুধু জীবননির্বাহ নয়, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষের যে সঞ্চয়ের প্রবণতা, তাও হ্রাস পাবে; যা সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। জনস্বার্থের কথা ভেবে সরকার নতুন কর আইন সংশোধন করবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঊষার আলো-এসএ