UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ বিকেলে বাসায় ফিরছেন খালেদা জিয়া

ঊষার আলো
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২২ ১২:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো রিপোর্ট : রাজধানীর এভারকেয়ার হাসাপাতালে চিকিৎসাধান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফিরছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল হওয়ায় এবং তিনি নিজে বাসায় ফিরতে উদগ্রীব হওয়ায় চিকিৎসকরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে বাসভবনে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যে বাসভবনে কর্মরত সকলের করোনা টেষ্ট করা হয়েছে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে পুরো বাসভবন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসক জানান, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের রক্তক্ষরণ আপাতত বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় তাকে ফিরোজায় রেখে চিকিৎসার জন্য চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এজন্য তার বাসাতেই চিকিৎসার প্রাথমিক সকল আয়োজন রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নিজেও এখন আর হাসপাতালে থাকতে চাইছেন না। এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রায় আড়াই মাস ধরে রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরাও মনে করছেন- বাসায় পারিবারিক পরিবেশে রাখতে পারলে খালেদা জিয়ার শারীরিক ও মানিসকভাবে আরও শক্ত হতে পারবেন। আত্মীয়-পরিবারের মধ্যে তিনি সেবার মানটা ভালো পাবেন।

অন্যদিকে হাসপাতালে প্রতিনিয়ত করোনা রোগির আগমন ঘটছে। এতে খালেদা জিয়াও আক্রান্ত হতে পারেন। এর আগেরবার তিনি হাসপাতালে থেকে দ্বিতীয়বার করোনাক্রান্ত হয়েছিলেন। একদিকে এই ভয়ের পাশাপাশি তার লিভার সিরোসিস রোগের ভয়ংকর দিকটাও ভাবিয়ে তুলছে চিকিৎসকদের। এসব ভাবনাকে সামনে রেখে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় সতর্ক অবস্থানে থাকবেন বলে জানা গেছে।

৭৭ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, দাঁত, চোখের সমস্যাসহ সর্বশেষ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। গত ১৩ নভেম্বর তার বাসভবন ফিরোজায় রক্তবমির পরপরই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এভারকেয়ারের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম তার চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

সেখানে এই রাজনীতিকের শারীরিক দূর্বলতার মধ্যেই রক্ত বমিসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এতে তার রক্তের হিমোগ্লোবিন মাত্রাতিরিক্ত কমে যেতে শুরু করে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে রক্ত দিতে হতো তাকে। সব মিলিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।

খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যার কারণেই অরুচি, ওজন হ্রাস, বমি, বমি ও মলের সঙ্গে রক্তপাত, জ্বর জ্বর ভাব, শরীরে পানি আসা, খনিজে অসমতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়। এসব কারণে খালেদা জিয়া খুব বেশি দূর্বল হতে থাকেন। তার দেহে খনিজ অসমতা চরম আকার ধারণ করে। প্রধান ইলেকট্রোলাইট অর্থাৎ সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্লোরিন উপাদানের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এ দূর্বলতার সৃষ্টি হতে থাকে। চিকিৎসকরে ভাষায় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত ছিলো। কিডনির ক্রিয়েটিনিন বর্ডার লাইনও খারাপ পর্যায়ে চলে যায় এসময়ে। খাওয়া দাওয়ার রুচি ছিলো না।

গত ২৮ নভেম্বর খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ায় খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। তিনবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেওয়া গেলেও চতুর্থবারের জন্য আশঙ্কা প্রকাশ করেন তখন।

ওই সময়ে চিকিৎসকরা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা অসহায় বোধ করছেন। বাংলাদেশে এ ধরনের রক্তক্ষরণ সামাল দেওয়ার কারিগরি সুযোগ নেই। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত দেশের বাইরে নিতে হবে। তারা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুপারিশও করেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারের অনুমতি নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিলো।

কিন্তু আইনি বাধ্য-বাধকতায় দেশের বাইরে যেতে দেওয়া সম্ভব নয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। রাজপথের বিরোধী দলের নানামুখি তৎপরতার প্রেক্ষিতে ৮ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি সরকার যথেষ্ট উদারতা দেখিয়েছে। আমরা তাকে (খালেদা জিয়া) বাসায় রেখে নিজের ইচ্ছা মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি, এটাই কি যথেষ্ট নয়। যদিও বিএনপির পক্ষ থকে বলা হয়- আইনি বাধ্যবাধকতায় নয়, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সুচিকিৎসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ যখন কোনোক্রমেই পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছিল না তখন বাইরে থেকে রক্ত ও অন্যান্য খণিজ দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছিল। পরে এ মাসের শুরুতে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে বিদেশ থেকে ক্যামেরাযুক্ত ক্যাপসুল আনা হয়। এ ক্যাপসুল দিয়ে খালেদা জিয়ার ক্যাপসুল এন্ডোস্কপি করা হয়। এতে রক্তক্ষরণের উৎস হিসেবে তার ক্ষুদ্রান্তের নিচে একটি ক্ষত সনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং ব্যান্ড লাইগেশন করে সে ক্ষতটি বন্ধ করা সম্ভব হয়। এতে বিএনপি চেয়ারপারসনের রক্তক্ষরণ আপাততঃ বন্ধ হয়েছে।

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা বলেন, এরপরও খালেদা জিয়া ঝুঁকিমুক্ত হননি। যে কোনও সময় আবারও নতুন বা পুরানো উৎস থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। তাই দ্রুত বিদেশে উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য তাকে নেয়া দরকার এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে লিভার ট্রান্সপ্লানটেশনই একমাত্র উপায় বলেই চিকিৎসকদের অভিমত।

এদিকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং বিদেশে যেতে আইনি বাধার সম্মুখীন হওয়ার প্রেক্ষিতে বিএনপি সারাদেশে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছিলো। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিএনপির সংসদ সদস্যরা খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবিতে প্রয়োজনে পদত্যাগেরও ঘোষণা দেয়।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে ১০ বিভাগীয় জেলা শহরসহ ৬৪ জেলায় সমাবেশ করেছে দলটি। এর আগে মানববন্ধন, দোয়া মিলাদ, স্মারকলিপি, অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ কর্মসূচি এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এবং সরকারের বিধি নিষেধের কারণে সমাবেশের মতো কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।

অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার একটু উন্নতি হওয়ায় গত ৯ জানুয়ারি তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকেই তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে যেতে চাচ্ছেন। কিন্তু এর মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি তার গৃহকর্মী ফাতেমা করোনায় আক্রান্ত হলে সে পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়। এখন তার করোনা টেস্ট নেগেটিভ হওয়ায় বাসায় নেওয়া হচ্ছে।

ঊষার আলো-এসএ