জামানত ও নির্বাচনী ব্যয় বৃদ্ধিসহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-তে আনা অগণতান্ত্রিক সংশোধনী বাতিলের দাবিতে খুলনায় স্মারকলিপি পেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট খুলনা জেলা কমিটি। বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর নূরনগরে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি পেশকালে উপস্থিত ছিলেন বামজোটের খুলনা জেলা কমিটির সমন্বয়ক ও বাসদ জেলা সদস্য সচিব কোহিনুর আক্তার কনা, সিপিবি খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল হান্নান, বাসদ জেলা আহ্বায়ক জনার্দন দত্ত নান্টু, সিপিবি জেলা সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মহানগর কমিটির সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, জেলা সদস্য মিজানুর রহমান বাবু, এস এম চন্দন, বাসদ নেতা আব্দুল করিম, কমিউনিস্ট লীগ জেলা সম্পাদক কাজী দেলোয়ার হোসেন, সিপিবি নেতা মীর ওবায়দুর রহমান ও বাসদ নেতা ইউনুস আহমেদ মাসুদ। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, আরপিও সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ বা জনগণের মতামত নেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে জনগণ, অথচ জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যয়সীমা ২০ লাখ থেকে ৫০-৭৭ লাখ টাকা করায় সাধারণ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে। এতে কালো টাকা ও ধনী প্রার্থীদের দৌরাত্ম্য বাড়বে বলে তারা মন্তব্য করেন।
এছাড়াও আইসিটি মামলায় চার্জশিট দিলেই প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণার বিধানকে মানবাধিকারবিরোধী বলে দাবি করেন বামজোটের নেতারা।
স্মারকলিপিতে জমা দেওয়া দাবির মধ্যে রয়েছে— জামানত ৫ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয়সীমা ৫ লক্ষ টাকায় নির্ধারণ, কালো টাকা ও পেশীশক্তিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা, সব আসনে ‘না’ ভোটের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা, পোস্টার ও লিফলেটের ব্যয় নির্বাচন কমিশনের বহন করা, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে কমিশনের সুয়োমটো ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রশাসনের বদলে কমিশনের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা।
বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে সংশোধিত আরপিও পুনর্বিবেচনা করে অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিল করা জরুরি।
ঊআ-মোহন চৌধুরী
