কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনি ডিপফেক, ভুয়া তথ্য, অনলাইন প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের মতো নানা ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই কোনো তথ্য বা সংবাদ যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জনউদ্যোগ, খুলনার আয়োজিত কর্মশালার বক্তারা।
শুক্রবার নগরীর ঢাকাইয়া বিয়েবাড়ির সেমিনার কক্ষে ‘প্রজন্মের মেলবন্ধনে সুরক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ‘এআই এবং তথ্যপ্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহার’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান এবং পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ, খুলনার আহ্বায়ক ও শিক্ষক নেতা মানস রায়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ও সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন। এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন আইসিটি শিক্ষক জয় বৈদ্য।
এছাড়া শিক্ষক দেবদাস মণ্ডল, নারী নেত্রী নূরুন নাহার হিরা, কৃষ্ণা দাস, দীপ বৈদ্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, এআই মানুষের দীর্ঘ সময়ের কাজ মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন করতে সক্ষম। তথ্য বিশ্লেষণ, হিসাব-নিকাশ, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মহাকাশ গবেষণা, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ এবং খনি অনুসন্ধানের মতো জটিল ক্ষেত্রেও এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।
তবে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কেও সতর্ক করেন বক্তারা। তারা বলেন, ডিপফেক ছবি ও ভিডিও, স্বয়ংক্রিয় ভুয়া তথ্য তৈরি, সাইবার অপরাধ এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এছাড়া অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বক্তারা তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়ার পর তার উৎস যাচাই করতে হবে। নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে অনুসন্ধান করে একাধিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজন হলে ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট এবং রিভার্স ইমেজ সার্চের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অতিথিরা বলেন, এআই ও তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনও জরুরি।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একটি নিরাপদ, সচেতন ও তথ্যসমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
