শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার ক্রস-বর্ডার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। দেশের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিধি ও সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হবে।
মঙ্গলবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৩ সালে দেশের চারটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি)-কে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কুয়েটের যাত্রা শুরু হয় এবং বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান অর্জন করতে হলে গবেষণা কার্যক্রম ও অ্যালামনাই নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মেধার ঘাটতির কারণে নয়, বরং পর্যাপ্ত প্রচেষ্টা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে আমরা অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখতে হলে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার সময়োপযোগী, আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বিকল্প নেই। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি সমাবেশ, আনন্দ র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
