বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগর আমীর ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান খালিশপুরে আয়োজিত জনসংলাপে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন। নগরীর শিল্পাঞ্চল খ্যাত খালিশপুর থানাধীন ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত এই জনসংলাপে এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের অবহেলা, কর্মসংস্থানের সংকট, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং তরুণ প্রজন্মের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জনসংলাপে উপস্থিত শ্রমিক, যুবক, নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বক্তব্যে ফুটে ওঠে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বেদনা। এলাকাবাসী জানান, শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও খালিশপুরের মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত এবং কর্মহীন তরুণরা হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ সময় অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “দাঁড়িপাল্লা প্রতীক কোনো ব্যক্তির নয়; এটি ন্যায়বিচার, সততা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক।” তিনি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সুখ-দুঃখ, জীবনসংগ্রাম ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন। তিনি বলেন, “খালিশপুর শুধু একটি এলাকা নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের ঘামঝরা ইতিহাসের প্রতীক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ উন্নয়নের নামে শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনেছে।”
তিনি আরও বলেন, শিল্পাঞ্চল খালিশপুরের তরুণ প্রজন্ম আজ দিশেহারা। শিক্ষা শেষ করেও তারা কর্মসংস্থান পাচ্ছে না, ফলে মাদক ও অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে নৈতিক নেতৃত্ব ও সৎ রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত জনসংলাপে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, ছাত্রশিবির, জামায়াতের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
জনসংলাপে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান আগামীর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে শিল্পাঞ্চলে পুনরায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিতকরণ, তরুণদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জনসংলাপে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি আস্থার কথা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতৃত্বই খালিশপুরের মতো শিল্প এলাকার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারে।
শেষে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই জনসংলাপ খালিশপুরের বাস্তব জনজীবন ও তরুণদের অন্তর্গত ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করেছে।
ঊআ-মোহন চৌধুরী
