UsharAlo logo
, |

জলবায়ু ন্যায়বিচার ও শিশুবান্ধব উপকূল গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

ঊষার আলো ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ ৮:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জলবায়ু সহনশীল ও নিরাপদ শিশুবান্ধব উপকূল গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, সমাজ ও সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, “শিশুদের সাথে থাকুন, শিশুদের অধিকারের কথা বলুন এবং শিশুদের দাবিকে অগ্রাধিকার দিন—আজ, আগামীকাল ও সর্বদা।”

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে উপকূলীয় শিশু ফোরামের আয়োজনে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত পঞ্চম উপকূলীয় শিশু সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, সুরক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য ও নীতি-নির্ধারণে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাব উপকূলীয় শিশুদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে। দুর্যোগ-পরবর্তী মানসিক আঘাত শিশুদের মনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত সৃষ্টি করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি)-এর লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে। অথচ উপকূলীয় এলাকায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যকর ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

শিশু প্রতিনিধিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নীতি-নির্ধারণে শিশুদের অংশগ্রহণ প্রায় অনুপস্থিত। আশ্রয়কেন্দ্রের নকশা, পানি ও স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা শিক্ষা পুনর্গঠনের পরিকল্পনায় শিশুদের বাস্তব চাহিদা উপেক্ষিত থাকে। তারা বলেন, “শিশুরা কেবল দুর্যোগের ভুক্তভোগী হতে চায় না—তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ হতে চায়।”

জাগ্রত যুব সংঘ–জেজেএস-এর নির্বাহী পরিচালক এটিএম জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক ও শিক্ষা পরামর্শক ড. রেজা মাহমুদ আল হুদা এবং নগর পরিকল্পনাবিদ আবেদ ফেরদৌস হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের স্থপতি রেজবিনা খাতুন রিক্তা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) এমএম চিশতি।

দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ জীবিকা নির্বাহে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উপকূলীয় অঞ্চলের ২৩টি জেলায় দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ মানুষের বসবাস।

সম্মেলনে উপকূলীয় শিশুরা ১৭ দফা দাবিনামা উত্থাপন করে, যেখানে নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, নিরাপদ পানি, জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত পরিবারের পুনর্বাসন এবং জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনায় শিশুদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়।

ঊআ-মোহন চৌধুরী