বর্ষা এলেই হাঁটুসমান পানি, দুর্গন্ধময় ড্রেন, মশার উপদ্রব ও ভাঙাচোরা রাস্তার ভোগান্তি নিয়েই বছরের পর বছর দিন কাটছে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের। বয়রা ও রায়ের মহল এলাকার সেই জমে থাকা ক্ষোভ, চাপা কষ্ট ও আগামীর প্রত্যাশা সামনে রেখে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিনব্যাপী উঠান বৈঠক করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগর আমীর ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।
এদিন তিনি এলাকার মানুষের দুয়ারে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শোনেন ও সরাসরি মতবিনিময় করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া নাগরিকরা একে একে তুলে ধরেন তাদের দৈনন্দিন দুর্ভোগের চিত্র। কেউ বলেন, বৃষ্টির সময় শিশু কোলে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়, কেউ মশার কামড় ও ডেঙ্গুর আতঙ্কে রাত কাটানোর কথা জানান। আবার কেউ নাগরিক সেবা পেতে দীর্ঘদিন ঘুরতে হওয়ার অভিযোগ করেন।
স্থানীয়রা জানান, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ময়লায় ভরা নালার কারণে জলাবদ্ধতা এখানে নিত্যদিনের সমস্যা। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে যেমন রাস্তা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গাছপালা কমে যাওয়ায় গরমও দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে বলে জানান তারা।
মানুষের এসব কষ্টের কথা শুনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “এগুলো কোনো পরিসংখ্যান নয়, এগুলো মানুষের জীবনের গল্প। এই কষ্ট দূর করা রাজনীতি নয়, এটা আমার দায়িত্ব।” তিনি নির্বাচিত হলে আধুনিক ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাল-নালা পরিষ্কার, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে এলাকাকে মশামুক্ত করার অঙ্গীকার করেন।
তিনি আরও আশ্বাস দেন, ভাঙাচোরা রাস্তা ও নাগরিক সেবা নিয়ে ভোগান্তি আর থাকবে না। ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয় সেবাকেন্দ্র, ডিজিটাল সেবা এবং মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পরিবেশ রক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গাছ কাটার শহর নয়, আমরা গাছ লাগানোর শহর গড়তে চাই, যেখানে বাতাসে স্বস্তি থাকবে, জীবনে শান্তি থাকবে।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইমরান হোসেন, সেক্রেটারি জি এম আব্দুল্লাহ, ইউনিট সভাপতি রবিউল আরিফ, সেক্রেটারি জুবায়ের হোসেনসহ জামায়াত ও মহিলা জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বৈঠক শেষে এলাকাবাসীর কণ্ঠে শোনা যায় আশার কথা। কেউ বলেন, “আজ অন্তত কেউ আমাদের কথা শুনেছে।” দীর্ঘদিনের অবহেলা আর দুর্ভোগ পেরিয়ে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ এখন তাকিয়ে আছে আগামীর দিকে।
ঊআ-মোহন চৌধুরী
