UsharAlo logo
, |

জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি সভা, একাধিক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

Mohon Chowdhury
জুলাই ১১, ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খুলনা মহানগরীতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত ও অপসারণে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর দুর্ভোগের জন্য কেসিসির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ভারী বৃষ্টিতে দেশের অন্যান্য শহরের মতো খুলনা মহানগরীর কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বৃষ্টি হলেই নগরীর কয়েকটি এলাকা তলিয়ে যাওয়া কেসিসির জন্য বিব্রতকর। শুক্রবার জলাবদ্ধ এলাকাগুলো পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যান্য এলাকার পানি দ্রুত নেমে গেলেও মুজগুন্নী এলাকার পানি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে। এ সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের মতামত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. মাসুদ করিমের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি এবং মুজগুন্নী, লবণচরা ও রয়্যাল মোড়কে কেন্দ্র করে তিনটি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন করে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে মূল কমিটির কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কেসিসির পূর্ত বিভাগ।

এ ছাড়া যথাসময়ে স্লুইস গেট খোলা ও বন্ধ, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, বক্স কালভার্ট জেট মেশিনের মাধ্যমে পরিষ্কার এবং এক্সকাভেটর ও ট্রাকসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, ‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নগরীর মোট ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের প্রায় ২৫ শতাংশ উন্নয়ন সম্পন্ন হবে। ভবিষ্যতে তিনটি পাম্প হাউস নির্মাণ, আধুনিক ড্রেন পরিষ্কার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং জোয়ারের পানি প্রবেশ ঠেকাতে বৈদ্যুতিক স্লুইস গেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

সভায় প্রশাসক চলমান ড্রেনেজ প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন, প্রকল্প শেষ হলে এর সুফল নির্ধারণ এবং ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ড্রেন ও খালের ওপর থেকে অবৈধ দখল সরিয়ে নেওয়া এবং ড্রেনে বর্জ্য না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।