UsharAlo logo
, |

জুলাই সনদের সব দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা ঘরে ফিরবে না

Mohon Chowdhury
আগস্ট ২, ২০২৬ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বৈষম্য দূর না হওয়ায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি রোডস্থ শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের অবদান, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কার্যকর, সকল শ্রেণি-পেশার শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, বন্ধ কলকারখানা চালু এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাহফুজুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকদের অবদান ও আত্মত্যাগ কোনো অংশে কম ছিল না। কিন্তু আজও শ্রমিকদের সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। তিনি বলেন, “জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা ঘরে ফিরে যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শতাধিক শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার শ্রমিক আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। নতুন বাংলাদেশে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আর রাজপথে নামতে না হয়। নারী শ্রমিকদের জন্যও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক সাবেক কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান সম্পাদক খান গোলাম রসুল, দৌলতপুর থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুশাররফ হুসাইন আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মনোয়ার আনসারী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরীর সাবেক সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাস্টার শফিকুল আলম বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। তবে ইতিহাসে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষের লড়াই ও আত্মত্যাগের ইতিহাসও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যয় রাষ্ট্রকে বহন এবং পঙ্গুত্ববরণকারী শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক নেতা, সংগঠক ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।