বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেছেন, নিহত ও আহতদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এবং তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং শহীদ ও আহতদের পরিবারের রাষ্ট্রীয় অধিকার নিশ্চিত করতে জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তিনি আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে থাকার এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, যারা চোখ, পা কিংবা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। শহীদদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক উঁচুতে। তিনি বলেন, সরকার পাশে না থাকলেও জামায়াতে ইসলামী শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকবে এবং এ সম্পর্ক কোনো ভোট বা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং দায়িত্ববোধ থেকে।
মতবিনিময় সভায় তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। জনগণ যে লক্ষ্য সামনে রেখে গণভোটে রায় দিয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে মৌলিক সংস্কারের দাবি উঠেছিল, তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম-খুনের বিচার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করতে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় জনগণ তাদের দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন এমপি, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সভায় জুলাই যোদ্ধা হুজাইফা শেখ বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
