বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। বিপদ সংকেত অনুধাবন করে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং একটি পথ বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প পথ খুঁজে বের করার সক্ষমতাই একজন নেতার গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা অঞ্চলের বাছাইকৃত রুকন প্রার্থী (পুরুষ ও মহিলা) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা অঞ্চল জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এ শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দূরে তাকালে শরীর, মন ও চিন্তা সোজা থাকে। সামনে কী হতে পারে, তা বুঝতে পারলে বিপদের আগাম সংকেত শনাক্ত করা যায়। একটি পথ বন্ধ হলে অন্য পথ বের করার যোগ্যতাই হিকমতের পরিচয়।”
তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে তাওয়াক্কুল, বায়াত ও শুকরের গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাওয়াক্কুলের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মানুষের দায়িত্ব হলো নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। তবে চূড়ান্ত সফলতার জন্য বস্তুগত শক্তির ওপর নয়, আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে হবে।
তিনি বলেন, “মানুষ যেমন মামলার জন্য উকিল নিয়োগ করে, তেমনি জীবনের সব প্রয়োজন ও ইচ্ছা পূরণের জন্য আল্লাহকে উকিল হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এটিই প্রকৃত তাওয়াক্কুল।”
তাওয়াক্কুলের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজের শক্তি ও সামর্থ্যের চেয়ে আল্লাহর সাহায্যের ওপর আস্থা রাখা, পরীক্ষার সময়ে তাঁর ওপর নির্ভর করা এবং একা হলেও সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
বায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী পরিভাষায় বায়াত হলো নিজের জান-মাল ও সত্তাকে আল্লাহর পথে ব্যবহারের অঙ্গীকার। সূরা তাওবার ১১১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ মুমিনদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করেছেন। তাই মানুষের জীবন, সম্পদ ও প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়াই বায়াতের প্রকৃত তাৎপর্য।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের পরিভাষায় বায়াত হচ্ছে নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে চলার অঙ্গীকার। রুকনদের এমন চরিত্র গড়ে তুলতে হবে যাতে সংগঠন তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা খুঁটির মতো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি শুকর বা কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি আরও নেয়ামত বৃদ্ধি করেন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মুমিনসুলভ চরিত্র, নৈতিকতা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
খুলনা অঞ্চল পরিচালক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ এবং মাওলানা মো. শাহজাহান।
এ সময় কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা মহানগর আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান এমপি, হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি, মাওলানা এমরান হুসাইন, উপাধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম মুকুল, মাওলানা রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
