UsharAlo logo
, |

ফিফায় ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে আস্থা নেই উয়েফার

ক্রীড়া ডেস্ক
আগস্ট ১, ২০২৬ ৬:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিতর্কিত ‘বিনিয়োগ পরিকল্পনা’ বাতিল করেও সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না ফিফার। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উয়েফা। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির যে পরিকল্পনা করেছিল ফিফা, তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেটা শুক্রবার বাতিল করতে বাধ্য হয় তারা। বিবৃতি দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সকল মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর’ নিজেদের ভাবনা থেকে সরে এসেছেন তারা।

ফিফার পরিকল্পনা ছিল, বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার জন্য একটি নতুন সংস্থার প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ করা। গত মঙ্গলবার ফিফা এই প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে। উয়েফা অভিযোগ তোলে, খেলাটির ‘আত্মা বিক্রি’ করে দিচ্ছে ফিফা। বিশ্বকাপসহ ফিফার সব আসর বর্জনের হুমকি দেয় ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

উয়েফার সঙ্গে ফিফার এই পরিকল্পনার কড়া ভাষায় বিরোধিতা করে উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার (কনক্যাকাফ) ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি)। এমনকি এর প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন ইনফান্তিনোর সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস করডেরোও।

প্রবল বিরোধিতার পরও, শুরুতে নিজেদের ভাবনায় অটল ছিল ফিফা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তারা। ফিফার এই সিদ্ধান্তের জন্য শনিবার ধন্যবাদ জানান এএফসির সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খালিফা। একই দিন দীর্ঘ বিবৃতিতে পরিকল্পনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে উয়েফা এটাকে ‘পুরো ফুটবলের জয়’ বলে উল্লেখ করে।

একই সঙ্গে, ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি নির্বাচনের প্রচারণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন ইনফান্তিনো, এই অভিযোগও তুলেছে উয়েফা।

উয়েফা বলছে, ফিফার বর্তমান নেতৃত্ব কেবল উয়েফার আস্থাই হারায়নি, ফুটবল পরিবারের আরও অনেক সদস্যের বিশ্বাসও হারিয়েছে। ২০১৬ সালে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যখন ফিফার সদস্য সংস্থাগুলোর কাছে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য আস্থা ও ভোট চেয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘অবশ্যই আমাদের স্বচ্ছ হতে হবে’।

উপস্থিত অংশীদারদের বলেছিলেন, ‘ফিফার অর্থ আপনাদেরই অর্থ। এটা ফিফা সভাপতির অর্থ নয়। আপনারা জাতীয় সংস্থা এবং ফিফার অর্থ ফুটবলের উন্নয়নে ব্যবহার হতে হবে, অন্য কিছুর জন্য নয়।’ এই দুটি প্রতিশ্রুতির একটিও তিনি রাখতে পারেননি। তিনি গোপনে যে জঘন্য ও অস্বচ্ছ চুক্তির ছক কষেছিলেন এবং সেটা জোর করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন, তা স্বচ্ছতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

এর আগে বৃহস্পতিবার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এএফসি প্রধান শেখ সালমানও বলেছিলেন, ফিফা যেভাবে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছে, তা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’ আরও একটি শীর্ষস্থানীয় কনফেডারেশন ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরাও এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ফিফা নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসলেও, এখানেই থামতে চায় না উয়েফা। সংস্থাটির মতে, ফিফার প্রতি হারানো আস্থা পুনর্গঠনের কাজ কেবল শুরু হয়েছে। এটা পুরো ফুটবলের জয়। কিন্তু এখানেই এই গল্পের শেষ নয়। এই প্রস্তাব আর নেই। কিন্তু ফিফার প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের কাজ কেবল শুরু হলো।

ঊষার আলো-এসএ