ঊষার আলো রিপোর্ট : বাংলাদেশি ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে কর্মরত থার্ড ইঞ্জিনিয়ার নিহত হাদিসুর রহমানের পরিবার গত শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান। মা-বাবাসহ তিন ভাইবোনের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী ও রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করার। তবে গত শনিবার-রবিবার তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়নি। তাই ব্যর্থ হয়ে ঢাকার মগবাজারে এক আত্মীয়ের ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেন এবং আজ সোমবার বিকেলে তারা ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন এ কথা জানিয়েছন নিহত হাদিসুরের বাবা।
আজ সোমবার সকালে মুঠোফোনে হাদিসুরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন,’ আমাদের আশা ছিলো প্রধানমন্ত্রী এবং রুশ রাষ্ট্রদূতের সাথে দেখা করবো। আমরা দেখা করতে না পেরে হতাশা নিয়ে আজ বিকেলে গ্রামের বাড়িতে আসব। ‘
হাদিসুরের মেজো ভাই তরিকুল ইসলাম জানান,’ আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা ও উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আমার বড়ভাই হাদিসুর রহমান। তার মৃত্যুতে পরিবার এখন পথে বসে গেছে। আমাদের পরিবারের দুরাবস্থার কথা আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চাই ও তার কাছ থেকে সহায়তা চাই। ‘
জানা যায়, গত বুধবার ইউক্রেনে রাশিয়ার রকেট হামলার শিকার হন বাংলাদেশি ২৯ নাবিক। এর মধ্যে বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলা বাজারসংলগ্ন চেয়ারম্যান বাড়ির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আবদুর রাজ্জাক ও আমেনা বেগম দম্পতির জ্যেষ্ঠ ছেলে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান আরিফ (২৮) ইউক্রেনে রকেট হামলায় নিহত হয়েছেন। এছাড়াও তাদের দুই ছেলে ও একটি মেয়ে আছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে ও ছেলের লাশ ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তায় পাগলপ্রায় মা ও বাবা। এখন পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছেলের লাশ পাওয়ার জন্য নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়েছেন মা-বাবা।উল্লেখ্য, ইউক্রেন সীমান্ত পার হয়ে মলদোভায় পৌঁছে রোমানিয়ার পথে আছেন ২৮ বাংলাদেশি নাবিক
ঊষার আলো-এসএ
