UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভদ্রা সেতুতে বদলে যাচ্ছে দাকোপের জনজীবন

Mohon Chowdhury
অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৭:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভদ্রা নদীর বুকে নির্মিত গার্ডার সেতু ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে খুলনার দাকোপ উপজেলার নদীবেষ্টিত জনপদে। দীর্ঘদিন খেয়া ও ট্রলারের ওপর নির্ভরশীল সুতারখালী, কামারখোলা ও আশপাশের সাত ইউনিয়নের মানুষের স্বপ্নের এ সেতু এখন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।

দাকোপ উপজেলার শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিনগর বাজারসংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৭ টাকা। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনও না হলেও সেতুর ওপর দিয়ে ইতোমধ্যে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, খেয়া পারাপারের দীর্ঘ অপেক্ষা, ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এবং যোগাযোগের দুর্ভোগ এখন অতীত হতে চলেছে। সেতুটি চালু হওয়ায় কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ অনেক সহজ হবে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। প্রতিদিন বিকেলে শত শত মানুষ সেতুটি দেখতে ভিড় করছেন। সেতুর মাধ্যমে দাকোপ উপজেলা সদর ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সাত ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। পাশাপাশি পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার সঙ্গেও মোংলা বন্দরের যোগাযোগ সহজ হবে। এতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভৌগোলিক কারণে দাকোপ উপজেলা ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডার নিয়ে গঠিত। দীর্ঘদিন ধরে ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান বাধা ছিল ভদ্রা নদী। পশ্চিম পাশে রয়েছে কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন এবং পূর্ব পাশে দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়ন।

এলজিইডির ‘গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সেতু নির্মাণ ও প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। বর্ধিতাংশসহ সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৬১ দশমিক ৬৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১৪০ দশমিক ১৬ মিটার।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। পরবর্তীতে তৃতীয় দফায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এমবিইএল-এইসি-কেই (জেভি) সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।

কালিনগর বাজারের ব্যবসায়ী সোহরাফ সানা বলেন, সেতু না থাকায় কৃষকদের মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হতো। পচনশীল কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। এখন ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গ্রাম্য চিকিৎসক হরিপদ হালদার বলেন, খেয়া পারাপারের কারণে জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন ছিল। সেতুটি চালু হওয়ায় এখন সড়কপথে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

খুলনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, সেতুটি চালু হওয়ায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। কৃষি, বিপণন, শিল্প ও পর্যটন খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বহু প্রতীক্ষিত এ সেতু শুধু যোগাযোগের নতুন দিগন্তই উন্মোচন করবে না, বরং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।