মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মাগুরা জেলা অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদের অর্থায়নে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে বাদ্যযন্ত্র এবং তাঁর বিশেষ বরাদ্দ প্রকল্পের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “লোকালয়ে আগুন লাগলে দেবালয়ও রক্ষা পায় না। একইভাবে স্কুল-কলেজে মাদকের বিস্তার ঘটলে ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার ও শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে অবসরকালীন সুবিধা প্রদান করেছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ ও খাল খননসহ নানা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।
মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহম্মেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসিনা মমতাজ।
অনুষ্ঠানে চার উপজেলার ২৮৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে বাদ্যযন্ত্র এবং বিশেষ বরাদ্দ প্রকল্পের চেকও হস্তান্তর করেন মন্ত্রী।
পরে বিকেলে তিনি শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এবং শালিখা উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করেন।
