‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার বৃহস্পতিবার যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যশোর জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের সহযোগিতায় খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস (পিআইডি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি বলেন, সত্য ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনে ফ্যাক্ট-চেকিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুজব ও ভুল তথ্য সমাজে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে এবং মিথ্যা তথ্যকে পরবর্তীতে ভুল প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রচার না করার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, গুজব সৃষ্টিকারী ও অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বেশি কার্যকর। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ক এ সেমিনার সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো. মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুন্না বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন যশোর জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. রেজাউল করিম। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার মো. রমজান আলী।
সভাপতির মূল প্রবন্ধে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা, ভুয়া তথ্য শনাক্তকরণ পদ্ধতি এবং ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের বিভিন্ন আধুনিক টুলস ও কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
সেমিনারে বক্তব্য দেন যশোর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক একরাম উদ-দৌলা, সদস্য সচিব মবিনুল ইসলাম মবিন এবং দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবীর নান্টুসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণ, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্কৃতি গড়ে তোলার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সেমিনারে যশোর জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের ৩০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
