ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারান্তরীণ খুলনা প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সিনিয়র সদস্য, ইসলামিক টিভির খুলনা প্রতিনিধি ও দৈনিক প্রবর্তনের নির্বাহী সম্পাদক কে এম জিয়াউস সাদাতের নি:শর্ত মুুক্তি দাবি করেছেন খুলনায় কর্মরত সহকর্মী সাংবাদিকবৃন্দ। পরিকল্পিতভাবে জিয়াকে মামলায় ফাঁসানোর সাথে জড়িত গোয়েন্দা কর্মকর্তারও অপসারণ দাবি করেন তারা।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তারা এ দাবি জানান। খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ, এমইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও কালের কন্ঠের ব্যুরো প্রধান এইচ এম আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব, এমইউজের সহ সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন। এমইউজের ট্রেজারার ও দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো প্রধান আব্দুর রাজ্জাক রানার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও এমইউজের সিনিয়র সদস্য বাংলাভিশনের খুলনা বিভাগীয় প্রধান আতিয়ার পারভেজ, বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার খুলনার সমন্বয়কারী এডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, মানবাধিকার সংগঠন অধিকার’র ডিফেন্ডার ও এমইউজের নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, দৈনিক প্রবর্তনের বার্তা সম্পাদক ডি এম রেজা সোহাগ, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন খুলনার সাবেক সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রবর্তনের ফটো সাংবাদিক নাজমুল হক পাপ্পু, জি এম রাসেল ইসলাম এবং সাংবাদিক জিয়ার স্ত্রী মাহবুবা তিন্নি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন খুলনার সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান, বিশিষ্ট ব্যাংকার খায়রুল ইসলাম লাল, মানবাধিকার কর্মী মাহবুব হোসেন, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সহকারী সম্পাদক ও দৈনিক খবরের কাগজের ব্যুরো প্রধান মাকসুদ আলী, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার মাশরুর মুর্শেদ, হাসান চৌধুরী, দৈনিক অনির্বাণের চীফ ফটো সাংবাদিক আবুল হাসান শেখ, দৈনিক প্রবাহের মফস্বল সম্পাদক কামরুল হোসেন মনি, দৈনিক খুলনার সহ-সম্পাদক মো. মোজাহিদুর রহমান, দৈনিক ডেসটিনির খুলনা ব্যুরো প্রধান শেখ ইউসুফ আলী, দৈনিক নয়াদিগন্তের মাল্টিমিডিয়ার খুলনা প্রতিনিধি ইমরান হোসেন, দৈনিক প্রবাহের এম এ আজিম, দৈনিক ইত্তেফাকের তারিকুল ইসলাম তারিক, সিনিয়র ফটো সাংবাদিক আব্দুল গফ্ফার, সেলিম গাজী, বাহার উদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার হঠালেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে তার বড় প্রমাণ এই মামলা। গাজীপুরের শ্রীপুর থানা আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা মামলার আসামীকে কথিত অপহরণ ও চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করেছেন তার পুত্র নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা। পুলিশ ও প্রশাসনের যেখানে আওয়ামী লীগের লুটেরা, খুনীদের খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করার কথা, সেখানে তাদেরকে জামাই আদরে রেখে পরিকল্পিতভাবে একজন কর্মরত পেশাদার সাংবাদিককে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ও অপরাধী সাজাতে গ্রেফতার করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক জিয়া বিগত দেড় দশক খুলনার রাজপথে আওয়ামী সরকারের গণমাধ্যমের কন্ঠরোধী ও সাংবাদিক নির্যাতনের সকল ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সরব ও সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকতো। দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পর আসা প্রথম ঈদ জিয়াকে অসুস্থ বৃদ্ধা মা, প্রিয়তমা স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যাকে রেখে কারাগারে কাটাতে হয়েছে। মামলার এজাহার পড়লেই যে কেউ বুঝবেন এই ঘটনায় জিয়ার কোন সম্পৃক্ততা নেই। শুধুমাত্র একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার জেদ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে আসামী করা হয়েছে। বক্তারা হুশিয়ার করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে পেরেছি। আর এখন আমাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সরকার ক্ষমতায়। অতীতে ফ্যাসিবাদের সকল সুযোগ সুবিধাভোগকারী কোন অপশক্তি আমাদেরকে দমাতে পারবেনা।
ঊআ-বিএস