UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাড়ে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা: শফিকুল আলম

Mohon Chowdhury
আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৭:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক সাবেক কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে শ্রমিক নেতৃত্বে যারা ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতা শ্রমিকদের জন্য কখনোই শুভকর ছিল না। সরকার যখন শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন আলোচনার জন্য মনোনীত শ্রমিক নেতাদের একটি অংশ বারবার শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

তিনি বলেন, সর্বশেষ সরকারকে প্রভাবিত করে শ্রমিকদের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শ্রমিকের মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। বর্তমান বাজারমূল্যে সাড়ে ১২ হাজার টাকা একটি ছোট পরিবারের জন্যও ন্যায়সঙ্গত নয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি রোডস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত অঞ্চল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাস্টার শফিকুল আলম বলেন, শ্রমিকদের জন্য যে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন হবে, তা বাস্তবায়নে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শ্রমিকদের চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরে যথাযথ অবদান রাখার পাশাপাশি শ্রমিক নেতৃত্বের অগ্রভাগে থেকে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে সংগঠনের যে বিশাল জনশক্তি রয়েছে, তা শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগাতে হবে। সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুসংহত করে বিভিন্ন সেক্টরে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে গোটা শ্রমিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘিত হলে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

বিগত সরকারের সময়ে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিগত স্বৈরাচারের আমলে আমরা কথা বলতে পারিনি। আজ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাই আমরা কথা বলছি। অধিকার আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো। জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।”

শ্রমিকদের স্থায়ী সমস্যা সমাধানে ইসলামী শ্রমনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শোষণ, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করতে ইসলামের শ্রমনীতির আলোকে শ্রম আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “মানুষের মনগড়া কোনো আইন দিয়ে শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে নীতি দিয়েছেন, সেই নীতিই শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে পারে।”

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান সম্পাদক ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক খান গোলাম রসুলের পরিচালনায় বৈঠকে বক্তব্য দেন খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, টিম সদস্য মো. আলফিদা হোসেন, খুলনা মহানগর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, সেক্রেটারি ডা. সাইফুজ্জামান, সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি অধ্যাপক সুজায়েত আলী, সেক্রেটারি আব্দুল গফফার, খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী, সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন, বাগেরহাট জেলা সভাপতি মু. আবুল কাশেম ও সেক্রেটারি মো. শহিদুল ইসলাম।

এ ছাড়া বৈঠকে মো. আবু হুরায়রা, মো. রবিউল ইসলাম, শেখ আনিসুর রহমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।