খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে গত ২০ জুন অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি।
রবিবার (২১ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপিকে জড়িয়ে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম, খুন, নির্যাতন ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। অথচ সেই ত্যাগ ও সংগ্রামকে খাটো করে কিছু রাজনৈতিক নেতা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। জনগণ এসব অপপ্রচার ও একক কৃতিত্ব নেওয়ার অপচেষ্টা কখনোই মেনে নেবে না।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে উসকানিমূলক বক্তব্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্যের জবাবে বিএনপি নেতারা বলেন, জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেটবিহীন কোনো রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে বিএনপির মতো বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী দল সম্পর্কে ভিত্তিহীন মন্তব্য করা দুঃখজনক। তারা দাবি করেন, স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সময় অতিক্রম করছে। এ অবস্থায় গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সকল গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ বা বিভক্তির রাজনীতি পরিহার করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, উসকানিমূলক বক্তব্য ও রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে। তাই জাতীয় স্বার্থে সকল পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
