UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

Mohon Chowdhury
অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যেই ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ। কোনো ষড়যন্ত্র বা অপকৌশল দিয়ে জনগণের অর্জিত সাফল্য ও বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করা যাবে না। ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতা রুখে দিতে সুসংগঠিত রাজপথের আন্দোলনই হবে কার্যকর জবাব।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নগরীর শান্তিধাম মোড়ের তারেরপুকুরস্থ দলীয় কার্যালয়ে ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় খুলনা মহানগরী জামায়াতের থানা আমীর ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন খুলনা অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটনসহ বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতারা।

মাহফুজুর রহমান বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদের অবশিষ্ট অনুচর ও সুবিধাবাদী চক্রান্তকারীরা নতুন করে সংগঠিত হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে জনগণের অর্জনকে ধূলিসাৎ করতে চায়। তবে এ দেশের জাগ্রত জনতা কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না। বুলেট ও জুলুম দিয়ে সাময়িকভাবে জনগণকে দমিয়ে রাখা গেলেও গণআকাঙ্ক্ষাকে কখনো চিরতরে স্তব্ধ করা যায় না। রাজপথের সুশৃঙ্খল আন্দোলনের মাধ্যমেই সব অপতৎপরতার জবাব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গণআন্দোলনের সাফল্য নির্ভর করে তৃণমূলের সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ওপর। লংমার্চের উদ্দেশ্য ও বার্তা খুলনা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা এবং মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এই লংমার্চ কোনো দলীয় স্বার্থসিদ্ধির কর্মসূচি নয়; বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আন্দোলন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহানগরী আমীর বলেন, প্রস্তুতি সভার পরপরই নিজ নিজ থানা ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে মতবিনিময় সভা ও ছোট বৈঠকের পাশাপাশি লংমার্চের লিফলেট সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতিটি পরিবার ও ভোটারের কাছে গিয়ে তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনা এবং আন্দোলনের উদ্দেশ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আন্দোলন সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ। উসকানি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির আচরণের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। লংমার্চ সফল করতে প্রচার, অর্থ ও শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।

খুলনাকে আন্দোলনের দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলে আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চকে জনসমুদ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, খুলনা মহানগরী থেকে এমন বার্তা দিতে হবে, যা সারা দেশের মুক্তিকামী মানুষকে নতুন প্রেরণা জোগাবে।

সভায় খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর, আড়ংঘাটা ও ব্যবসায়ী থানা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এবং আড়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঊআ- মোচৌ